দেশজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’ ও সাইবার প্রতারণার ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মানুষকে ভয় দেখিয়ে বা ভুয়ো নির্দেশ দিয়ে অনলাইনে প্রতারণা এখন বড় অপরাধচক্রে পরিণত হয়েছে। তাই এই সব মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও ভাবছে আদালত।
সোমবার বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত জানায়, কোথায় কতগুলি ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’-এর ঘটনা ঘটেছে, তার বিস্তারিত তথ্য জানতে চায় তারা। এই জন্য প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কতটি এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে, সেই তথ্য আগামী শুনানির আগে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে।
এই ঘটনার সূত্রপাত হরিয়ানার অম্বালায় এক প্রৌঢ়াকে কেন্দ্র করে। প্রতারকেরা তাকে আদালতের ভুয়ো নির্দেশনামা দেখিয়ে ‘ডিজিটাল গ্রেফতার’ করে এবং এক কোটি পাঁচ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই আদালত স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
সোমবারের শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, এই ধরনের প্রতারণার মূল কেন্দ্র বিদেশে, বিশেষ করে মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে বসে এই চক্রগুলি কাজ করে।
আদালত সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে, কীভাবে এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতারণার তদন্ত করা যায়, তার একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। বিচারপতিরা আরও বলেন, “তদন্তের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে আমরা পর্যবেক্ষণ করব এবং প্রয়োজনে নির্দেশ দেব।” সিবিআইয়ের পর্যাপ্ত জনবল আছে কি না, তাও জানতে চেয়েছে আদালত। প্রয়োজনে বাইরের সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার কথাও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।


