এক ছাত্রীর অভিযোগ থেকে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত দেশের সমস্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনতন্ত্র ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। সম্প্রতি আমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত হেনস্থার অভিযোগের শুনানিতে আদালত জানায়, সারাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কীভাবে তৈরি হচ্ছে, কারা চালাচ্ছে এই সব বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে কেন্দ্র, রাজ্য ও ইউজিসি-র কাছ থেকে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। অভিযোগকারী ছাত্রী খুশি জৈন সরকারি গেজেটে নিজের নাম বদলে আয়েশা জৈন করেন। নতুন নামে একটি সার্টিফিকেট কোর্সও সম্পূর্ণ করেন। এরপর ২০২৪ সালে তিনি আমিটি বিজনেস স্কুলের এমবিএ কোর্সে ভর্তি হন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে নাম সংশোধন করতে গেলে সমস্যার মুখে পড়েন তিনি। প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় নাকি নাম বদলাতে রাজি হয়নি। অভিযোগ, এর জেরে তাকে ক্লাস ও পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি এবং নাম নিয়ে কটূক্তিও করা হয়েছে।
ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রকে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা না পেয়ে তিনি ২০২৫-এর মাঝামাঝি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শুনানিতে আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ও উপাচার্যকে হাজির হতে নির্দেশ দেয়। পরে আদালতের নির্দেশ না মেনে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করে আমিটি বিশ্ববিদ্যালয়।
ছাত্রী দাবি করেন, আইনসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করেও নাম সংশোধন করতে না দেওয়ায় তার একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি বৈষম্যমূলক ব্যবহারের অভিযোগও জানান তিনি।
ইউজিসিকে আরও জানাতে হবে তাদের নজরদারি ব্যবস্থা বাস্তবে কীভাবে কাজ করে। হলফনামা যথাযথ না হলে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
এই ঘটনার পরবর্তী শুনানির তারিখ ২০২৬-এর ৮ জানুয়ারি নির্ধারিত করা হয়েছে।


