সুপ্রিম কোর্টে সোমবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাইকে লক্ষ্য করে এক প্রবীণ আইনজীবী জুতো ছুড়ে মারার চেষ্টা করায় ছড়ায় চাঞ্চল্য। তার নিশানা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও আদালতজুড়ে শুরু হয় বিতর্ক। ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত বিচারপতি, আইনজীবী ও এ দালতের উপস্থিত দর্শকরা হতবাক হয়ে যান। এমন ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে আগে ঘটেছে কি না, তা কেউই মনে করতে পারেননি।
জানা গেছে অভিযুক্ত আইনজীবীর নাম রাকেশ কিশোর। জানা গেছে, তিনি জুতো ছোড়ার পর ‘সনাতনের অপমান আমরা সহ্য করব না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাকে আটক করে আদালতের বাইরে নিয়ে যান। তবে ঘটনার পরও প্রধান বিচারপতি গাভাই বলেন, “বিচলিত হবেন না। আমি বিচলিত নই। এইসব ঘটনা আমাকে প্রভাবিত করে না।” আইনজীবী মহলের একাংশের দাবি, এটি আসলে সুপ্রিম কোর্ট ও সংবিধানবিরোধী এক জাতিগত আক্রমণ। বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং বলেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঘটনার পরই বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (বিসিআই) রাকেশ কিশোরের প্র্যাকটিসের লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করে। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যাতে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের একটি পুরোনো রায়ের কারণেই এই ক্ষোভের সৃষ্টি। মধ্যপ্রদেশে খাজুরাহোতে বিষ্ণুমূর্তি পুনঃস্থাপন না করার রায়কে ঘিরে বিচারপতি গাভাইকে হেনস্থার শিকার হতে হয়। অন্যদিকে আইনজীবী কপিল সিব্বাল ও সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।


