তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলার তিরুপারানকুন্ড্রাম পাহাড়ের মাথায় অবস্থিত সিকান্দার বাদশা আউলিয়া দরগাকে ঘিরে বহুদিনের আইনি বিরোধে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, মাদ্রাজ হাই কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে তারা কোনও পরিবর্তন আনবে না। ফলে হাই কোর্টের রায়ই বহাল থাকছে। আগেই হাই কোর্ট বলেছিল, রমজান ও বকরিদ ছাড়া অন্য সময় ওই দরগা প্রাঙ্গণে নামাজ পড়ার অনুমতি থাকবে না। একই সঙ্গে পাহাড়ের উপরে পশু জবাই, রান্না বা আমিষ খাবার পরিবেশন নিয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
সোমবার শুনানিতে বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি পি বি ভারালির বেঞ্চ হাই কোর্টের রায়কে ‘সমতাভিত্তিক’ বলে মন্তব্য করে। তাদের বক্তব্য, এই নির্দেশে ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে, তাই হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। দরগার খাদেম এম ইমাম হোসেনের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে দাবি করেন, ওই এলাকায় কখনও বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হয়নি। তিনি জানান, আগের আদালতগুলিও জমির একাংশে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার স্বীকার করেছে। তাই শুধু নির্দিষ্ট দু’টি উৎসবে নামাজ সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি আপত্তি জানান।
এর জবাবে আদালত বলে, যদি পরিস্থিতি একেবারেই শান্ত থাকত, তবে শান্তি বৈঠকের প্রয়োজন পড়ত না। অর্থাৎ, সম্ভাব্য সমস্যা এড়াতেই এই নিয়ম করা হয়েছে। এই বিরোধের মূল কারণ, একই পাহাড়ে দরগার পাশাপাশি বিখ্যাত সুব্রহ্মণিয়াস্বামী মন্দিরও রয়েছে। দুই সম্প্রদায়ের উপাসনাস্থল কাছাকাছি হওয়ায় ভিড় ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। হাই কোর্টের মতে, বড় জমায়েত হলে মন্দিরে যাতায়াতেও অসুবিধা হতে পারে।
এর আগে হাই কোর্টের দুই বিচারপতির মধ্যে মতভেদ হওয়ায় বিষয়টি তৃতীয় বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। তবে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, বর্তমান নির্দেশই কার্যকর থাকবে।ফলে আপাতত উৎসব ছাড়া অন্য সময় দরগায় নামাজ ও সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপে নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকছে।


