কেন্দ্রের আনা নতুন ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ওয়াকফ নিবন্ধন নিয়ে কোনো রায় দেয়নি। মামলায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে কয়েকটি ধারার ওপর, কিন্তু ওয়াকফ রেজিস্ট্রেশন বিষয়টি তাতে নেই। তবুও কেন্দ্র সরকার নির্দেশ দিয়েছে, যে সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তি ইতিমধ্যে ওয়াকফ বোর্ডে নিবন্ধিত নয়, সেগুলোও নতুন কেন্দ্রীয় পোর্টালে তথ্য আপলোড করবে। এই কাজের জন্য ছয় মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু মামলার দীর্ঘতার কারণে অনেক ওয়াকফ সম্পত্তির দায়িত্বপ্রাপ্তরা সময়মতো তথ্য আপলোড করেননি। ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল কেন্দ্র এই নির্দেশ জারি করলেও চূড়ান্ত রায় আসে ১৪ সেপ্টেম্বর। ফলে প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে। সময় সীমা শেষ হওয়ার আগে, হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদ উদ্দিন ওয়েসি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, যাতে নিবন্ধন ও পোর্টালে তথ্য আপলোডের সময় বৃদ্ধি করা হয়।
ওয়েসির আইনজীবী নিজাম পাশা আদালতে বলেন, “মামলার সময় অধিকাংশ সময়ই চলে গেছে। চূড়ান্ত রায়ের জন্য সবাই অপেক্ষা করেছে। তাই রেজিস্ট্রেশনের জন্য পর্যাপ্ত সময় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। না হলে নতুন আইন অনুযায়ী সম্পত্তি নিবন্ধিত না হলে আইনি সুরক্ষা পাওয়া যাবে না।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক স্থানে জমি মাফিয়া ও প্রোমোটাররা ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করার জন্য অপেক্ষা করছে। সুপ্রিম কোর্ট এই আর্জি গ্রহণ করেছে, তবে তা মানে সময় বৃদ্ধি করা হলো, এমন নয়। দেশে প্রচুর ওয়াকফ সম্পত্তি এখনও নিবন্ধিত হয়নি। বহু সম্পত্তি ওয়াকফ বিবেচিত হলেও ওয়াসীয়াতনামা, ওয়াকফ ডিড বা বৈধ দলীলের অভাব রয়েছে। মামলা চলাকালীন এইসব সম্পত্তির সুরক্ষা ও রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নিয়েও আদালতে দাবি জানানো হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছয় মাসের মধ্যে এত বড় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।


