তৃণমূল কংগ্রেসের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দল বিরোধী কাজের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা করেন তৃণমূলের মহাসচিব ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, দল কোনওভাবেই সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা বিভাজনমূলক মন্তব্যকে প্রশ্রয় দেয় না।
ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ৬ ডিসেম্বরের একটি কর্মসূচি। ওই দিন মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস কর্মসূচির ডাক দেন হুমায়ুন কবীর। এই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে দল আগেই অস্বস্তিতে পড়েছিল বলে সূত্রের দাবি। শেষ পর্যন্ত দল জানিয়ে দেয়, এই উদ্যোগ সম্পূর্ণভাবে তৃণমূলের অবস্থানের বিরোধী।
গত বছর বেলডাঙ্গায় সাম্প্রদায়িক হিংসার পরে উস্কানিকমূলক মন্তব্য শোনা যায় হুমায়ুন কবিরের কন্ঠে। বিগত এক বছর ধরে বহুবার হুমায়ুন কবিরকে জনসমক্ষে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা গেছে। যাতে বহুবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে শাসক দলকে আর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিদের। অন্যদিকে বারংবার বিভাজনমূলক মন্তব্য করা সত্ত্বেও ভরতপুর বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বিরুদ্ধে কোন আইনি পদক্ষেপ নেয়নি রাজ্য সরকার। এমনকী তৃণমূল কংগ্রেস কোনও অভ্যন্তরীণ শাস্তিমূলক পদক্ষেপও গ্রহণ করেনি। এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, হঠাৎ করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মন্দির নির্মাণের প্রত্যুত্তরে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা করা মাত্র তৃণমূল কংগ্রেস থেকে কেন সাসপেন্ড করা হলো বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে?


