তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি জেলার নাঙ্গুনেরি এলাকার পেরুমপাথ্তু গ্রামে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, জাতিগত বিদ্বেষ থেকেই এই আক্রমণ চালানো হয়। ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক প্রতিবন্ধী দলিত ব্যক্তি এবং ওড়িশা থেকে কাজের খোঁজে আসা এক শ্রমিক। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২ মার্চ সন্ধ্যায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সাতজন যুবক গ্রামে ঢুকে আচমকা হামলা চালায়। তারা নির্বিচারে কুপিয়ে দু’জনকে খুন করে এবং আশপাশে থাকা কয়েকজনকেও আঘাত করে। আহতদের মধ্যে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন।
এই ঘটনায় কান্নন, বসন্ত কুমার, অ্যান্থনি মাইকেল, উচিমাহালি ওরফে মিট্টাই, রাজা ওরফে এসাক্কিরাজা, সুব্বাইয়া ওরফে সুবাশ এবং কল্যাণী নামে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সকল অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়েছে এবং বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জন কয়েক বছর আগে আরেকটি জাতিগত হামলার ঘটনায় জড়িত ছিল। তখন তারা নাবালক হওয়ায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিক ভাবে হামলার কারণ স্পষ্ট না হলেও, স্থানীয় সূত্রের দাবি—এটি পরিকল্পিত আক্রমণ। এলাকায় দলিত যুবকদের ভয় দেখাতে ও চুপ করিয়ে রাখতে এই হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। অভিযুক্তদের একজন শাসকদল ডিএমকের এক স্থানীয় নেতার আত্মীয় বলে জানা গেছে, যদিও ওই নেতা জানিয়েছেন, বহু বছর ধরে তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্টে একই এলাকায় এক দলিত ছাত্রের ওপর নির্মম হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর রাজ্য সরকার বিচারপতি কে. চন্দ্রুর নেতৃত্বে এক সদস্যের কমিশন গঠন করে। কমিশন স্কুলে জাতিগত চিহ্ন বহন নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছিল।
সাম্প্রতিক হামলার পর গ্রামে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। নিহত ওড়িশার শ্রমিকের দেহ সৎকার করা হয়েছে, আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার। অন্যদিকে, দলিত নিহতের পরিবার সব অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবিতে দেহ নিতে অস্বীকার করেছে।
তিরুনেলভেলির পুলিশ সুপার ভি. প্রসন্ন কুমার জানিয়েছেন, ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট নজরে এসেছে। এ ধরনের বার্তা ছড়ালে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।


