মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলার ঘোটি-নানদোরা গ্রামে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার জেরে দশটি মুসলিম পরিবার কার্যত সামাজিক বয়কটের মুখে পড়েছে। অভিযোগ, জানুয়ারিতে একটি ধর্মীয় সভায় বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের পর থেকেই গ্রামের একাংশ এই পরিবারগুলির সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এর ফলে নিত্যদিনের কাজকর্ম থেকে জীবিকা, সব ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই সভায় বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বক্তৃতার সময় মুসলিমদের সঙ্গে লেনদেন না করার আহ্বান জানানো হয়। এরপর থেকেই গ্রামের দোকান, বাজার এবং বিভিন্ন পরিষেবা থেকে মুসলিম পরিবারগুলিকে দূরে রাখা শুরু হয়।
মুদি দোকানদাররা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিতে অস্বীকার করছেন বলে অভিযোগ। এমনকি মুসলিম গাড়িচালকদেরও কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেকেই উপার্জনের পথ হারিয়েছেন। আসিফ হুসেন নামক এক স্থানীয় বাসচালক জানান, তাকে গাড়ি চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। একইভাবে সাদিক নামে এক ইলেকট্রিশিয়ানও কাজ না পেয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে বেকার।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের কোণঠাসা করা হচ্ছে যাতে তারা গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। বহু বছর ধরে শান্তিতে বসবাস করলেও হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে তারা আতঙ্কিত।
গ্রামের বাসিন্দা খাইরুন নিশা বলেন, এই বয়কটের জেরে সবাই ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আগে কখনও এমন অভিজ্ঞতা হয়নি বলেও জানান তিনি।
এদিকে, গ্রামে বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় পতাকা টাঙানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক কিশোর সমরিতে। তিনি বলেন, এটি সংবিধান প্রদত্ত অধিকারের পরিপন্থী। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি, না হলে বড় ধরনের অশান্তি ছড়াতে পারে।


