২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই তালিকা প্রকাশ করেছেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সী। এবার মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯১টিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দার্জিলিংয়ের তিনটি আসনে তৃণমূল লড়বে না বলে জানানো হয়েছে। ওই আসনগুলোতে অনিতা থাপার দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে দলনেত্রী জানিয়েছেন।
২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি আসন বাড়ালেও তৃণমূলের জয় ছিল অনেকটাই একতরফা। তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে এসআইআর সংক্রান্ত ঘটনার পর রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। যদিও এই নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মমতা। তাঁর দাবি, এবারের ভোটেও তৃণমূল বড় ব্যবধানে জয় পাবে।
প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, মহিলাদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৫০ জনেরও বেশি মহিলা প্রার্থী রয়েছেন। পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য ৮৪টি আসন রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—প্রায় সব জেলাতেই পুরনো ও নতুন মুখের মিশ্রণ দেখা গিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলির মধ্যে ভবানীপুরে নিজেই প্রার্থী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কামারহাটি থেকে মদন মিত্র, ব্যারাকপুরে রাজ চক্রবর্তী, বরানগরে সায়ন্তিকা, বেহালা পশ্চিমে রত্না চট্টোপাধ্যায় এবং কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিমকে প্রার্থী করা হয়েছে। এছাড়া শিলিগুড়িতে গৌতম দেব, ডোমকলে হুমায়ুন কবীর, নন্দীগ্রামে পবিত্র কর ও টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসকে প্রার্থী করা হয়েছে।
তালিকা ঘোষণার আগে ও পরে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ করছে। অফিসার বদল নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, “আড়াল থেকে লড়াই না করে সামনে এসে রাজনৈতিক লড়াই করা উচিত।”
মমতা আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হলে তার দায় কেন্দ্রকে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে বিশ্বাস থাকলে ভয় কিসের?” তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়েও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হচ্ছে।
তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তাঁদের সরকার মানুষের জন্য বহু প্রকল্প চালু করেছে। ১০০-র বেশি জনমুখী প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পরিষেবা চালু রাখতে হলে তৃণমূলকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে।
দেখে নিন তৃণমূলের পূর্ণ তালিকা:
মাথাভাঙা- সাবলু বর্মন
কোচবিহার উত্তর- পার্থ প্রতিম রায়
কোচবিহার দক্ষিণ- অভিজিৎ দে
শীতলকুচি- হরিহর দাস
মেখলিগঞ্জ- পরেশ অধিকারী
দিনহাটা- উদয়ন গুহ
আলিপুরদুয়ার- সুমন কাঞ্জীলাল
ধূপগুড়ি- ড. নির্মল রায়
শিলিগুড়ি- গৌতব দেব
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি- শঙ্কর মালাকার
চোপড়া- হামিদুল রহমান
বালুরঘাট- অর্পিতা ঘোষ
হরিরামপুর- বিপ্লব মিত্র
ডোমকল- হুমায়ুন কবীর
করিমপুর- সোহম চক্রবর্তী
পলাশিপাড়া- রুকবানুর রহমান
হাবড়া- জ্যোতিপ্রিয মল্লিক
রাসবিহারী- দেবাশিস কুমার
ভাটপাড়া- অমিত গুপ্তা
নোয়াপাড়া- তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য
ব্যারাকপুর- রাজ চক্রবর্তী
কামারহাটি- মদন মিত্র
বরানগর- সায়ন্তিকা
ডায়মন্ড হারবার- পান্নালাল হালদার
সোনারপুর দক্ষিণ- লাভলি মৈত্র
ভাঙড়- শওকত মোল্লা
বেহালা পশ্চিম- রত্না চট্টোপাধ্যায়
কলকাতা পোর্ট- ফিরহাদ হাকিম
ভবানীপুর- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মানিকতলা- শ্রেয়া পাণ্ডে
হাওড়া উত্তর- গৌতম চৌধুরী
শিবপুর- রানা চট্টোপাধ্যায়
পাঁচলা- গুলশন মল্লিক
উলুবেড়িয়া পূর্ব- ঋতব্রত
বেলেঘাটা- কুণাল ঘোষ
উত্তরপাড়া- শীর্ষান্ন বন্দ্যোপাধ্য়ায়
সিঙ্গুর- বেচারাম মান্না
চুঁচুডা- দেবাংশু ভট্টাচার্য
নন্দীগ্রাম- পবিত্র কর
সবং- মানস ভুঁইয়া
ডেবরা- রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়
টালিগঞ্জ- অরূপ বিশ্বাস
রামনগর- অখিল গিরি
কাকদ্বীপ- মন্টুরাম পাখিরা
সোনারপুর উত্তর – ফিরদৌসি বেগম
মন্তেশ্বর- সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী
বারুইপুর পূর্ব- বিভাস সর্দার
বারুইপুর পশ্চিম- বিমান বন্দোপাধ্যায়
রাজারহাট – গোপালপুরে অদিতি মুন্সি
২৪৪. কাশীপুর- সৌমেন বেলথুরিয়া
২৪৫. পাড়া- মানিক বাউরি
২৪৬. রঘুনাথপুর- হাজারী বাউরি
২৪৭. শালতোড়া- উত্তম বাউরি
২৪৮. ছাতনা- স্বপন কুমার মণ্ডল
২৪৯. রানিবাঁধ- ডাঃ তনুশ্রী হাঁসদা
২৫০. রায়পুর- ঠাকুর মনি সরেন
২৫১. তালড্যাংরা- ফাল্গুনী সিংহবাবু
২৫২. বাঁকুড়া- ডাঃ অনুপ মণ্ডল
২৫৩. বরজোড়া- গৌতম মিশ্র (শ্যাম)
২৫৪. ওন্দা- সুব্রত দত্ত (গোপ)
২৫৫. বিষ্ণুপুর- তন্ময় ঘোষ
২৫৬ . কোতুলপুর- হরকালী প্রতিহার
২৫৭. ইন্দাস- শ্যামলী রায় বাগদী
২৫৮ . সোনামুখী- ডাঃ কল্লোল সাহা
২৫৯. খণ্ডঘোষ- নবীন চন্দ্র বাগ
২৬০. বর্ধমান দক্ষিণ- খোকন দাস
২৬১. রায়না- মন্দিরা দলুই
২৬২. জামালপুর- ভূতনাথ মল্লিক
২৬৩ . মন্তেশ্বর- সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী
২৬৪. কালনা- দেবপ্রসাদ বাগ
২৬৫ . মেমারি- রাসবিহারী হালদার
২৬৬. বর্ধমান উত্তর (SC)- নিশীথ কুমার মালিক
২৬৭. ভাতার- শান্তনু কোঙার
২৬৮ . পূর্বস্থলী দক্ষিণ- স্বপন দেবনাথ
২৬৯. পূর্বস্থলী উত্তর- বসুন্ধরা গোস্বামী
২৭০. কাটোয়া- রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়
২৭১. কেতুগ্রাম- শেখ সাহনওয়াজ
২৭২. মঙ্গলকোট- অপূর্ব চৌধুরী (অচল)
২৭৩. আউশগ্রাম- শ্যামাপ্রসন্ন লোহাড়
২৭৪. গলসি – অলক কুমার মাজি
২৭৫. পাণ্ডবেশ্বর- নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
২৭৬. দুর্গাপুর পূর্ব- প্রদীপ মজুমদার
২৭৭. দুর্গাপুর পশ্চিম- কবি দত্ত
২৭৮. রানিগঞ্জ- কালোবরণ মণ্ডল
২৭৯. জামুরিয়া- হরেরাম সিংহ
২৮০. আসানসোল দক্ষিণ- তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়
২৮১. আসানসোল উত্তর- মলয় ঘটক
২৮২. কুলটি- অভিজিৎ ঘটক
২৮৩. বারাবনি- বিধান উপাধ্যায়
২৮৪. দুবরাজপুর- চন্দ্র নরেশ বাউরি
২৮৫. সিউড়ি- উজ্জ্বল চ্যাটার্জি
২৮৬. বোলপুর- চন্দ্রনাথ সিনহা
২৮৭. নানুর- বিধান চন্দ্র মাজি
২৮৮ . লাভপুর- অভিজিৎ সিনহা (রানা)
২৮৯. সাঁইথিয়া- নীলাবতী সাহা
২৯০ ময়ূরেশ্বর- অভিজিৎ রায়
২৯১. রামপুরহাট- আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়
২৯২. হাসন- ফায়েজুল হক (কাজল সেখ)
২৯৩. নলহাটি- রাজেন্দ্র প্রসাদ সিং
২৯৪. মুরারই- মোশাররফ হোসেন

