ভোটের ধাক্কায় দল যখন ব্যাকফুটে, ভাঙন রুখতে হিমশিম খাচ্ছেন নেতারা, ঠিক তখনই তৃণমূলের অন্দরে তুমুল ঝড় তুলল বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়ার এক অবিশ্বাস্য খতিয়ান। একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত চার বছরে বিমান যাতায়াত বাবদ ঘাসফুল শিবিরের খরচ হয়েছে ১৩০ কোটি টাকারও বেশি। আর এই বিপুল খরচের সিংহভাগই নাকি ব্যবহার করা হয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড ফ্লাইটের জন্য।
সম্প্রতি ভরাডুবির আবহেই চার্টার্ড বিমানে চড়ে অভিষেকের দিল্লি যাত্রা নিয়ে দলের অন্দরেই কানাঘুষো শুরু হয়েছিল। সেই বিতর্কের মাঝেই নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া দলের অডিট রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তি আরও বাড়ল। হিসাব বলছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই বিপুল টাকা খরচ হয়েছে। অথচ, ভোট ছাড়া বাকি সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি বিমান ব্যবহার করায় সেই খরচ দলের তহবিলের ওপর পড়েনি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৩৫ কোটি, ২০২৩-এ ১৩ কোটি এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের বছরে খরচ একলাফে ছুঁয়েছিল ৫০ কোটি টাকা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০২৫ সালে কোনো বড় নির্বাচন না থাকা সত্ত্বেও বিমান ভাড়ার পিছনে ওড়ানো হয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা!
লোকসভা ভোটের বছরে যেখানে দলের মোট নির্বাচনী খরচ ছিল ৮২ কোটি টাকা, সেখানে অর্ধেকের বেশি টাকাই কেটে গেছে আকাশপথের যাতায়াতে। বিজেপির মতো জাতীয় দলের সাথে তুলনা টেনে অনেকেই বলছেন, একটি আঞ্চলিক দলের ক্ষেত্রে এমন রাজকীয় খরচ কার্যত নজিরবিহীন। পরাজয়ের পর দলের বিধায়কদের একাংশ যখন অভিষেকের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, তখন এই বিপুল খরচের খতিয়ান বঙ্গে নয়া রাজনৈতিক শোরগোল ফেলে দিল।


