ফ্রিজ হয়ে যাওয়া দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন ফের চালু করতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলো তৃণমূল কংগ্রেস। তবে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত শুনানির আবেদন জানালেও আদালতের পক্ষ থেকে তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলা করার অনুমতি দিলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তড়িঘড়ি নয়, আগামী বুধবার এই বিষয়ের শুনানি হতে পারে।
গত শুক্রবার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টের লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা তোলা আটকে দেওয়া হয়। এর ঠিক একদিন আগে, গত বৃহস্পতিবার, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বিধায়ক বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত বিপুল বেআইনি টাকা ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা রয়েছে।
আদালতে তৃণমূলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কিশোর দত্ত যুক্তি দেন, যেহেতু এগুলি একটি রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্ট, তাই টাকা তোলার সুবিধা বা ডেবিট ব্যবস্থা দ্রুত সচল করা জরুরি। তবে বিচারপতি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সোমবার বা মঙ্গলবার শুনানির আর্জি ফিরিয়ে দিয়ে বুধবার আসার নির্দেশ দেন।
পুলিশ ইতিমধ্যেই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করে তদন্ত শুরু করেছে। যদিও অভিযোগপত্রে অ্যাকাউন্টের মালিকদের নাম স্পষ্ট করা হয়নি, তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তৃণমূলের পুরনো নথি অনুযায়ী, এই তিনটি অ্যাকাউন্টের একটি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে, এবং বাকি দুটি দলটির ত্রিপুরা ও গোয়া শাখার নামে নথিভুক্ত রয়েছে। আপাতত আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় আটকে রইল ঘাসফুলের আর্থিক লেনদেন।

