সরকারি টাকা লোপাট, কাটমানি রাজ এবং ক্ষমতার একাধিপত্যকে কেন্দ্র করে বর্ধমান ২ ব্লকে শাসকদল তৃণমূলের অন্দরের তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবার সম্পূর্ণ রাস্তায় চলে এল। দলেরই ব্লক সভাপতি শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধে চরম স্বৈরাচার, বিপুল আর্থিক দুর্নীতি এবং একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলে একযোগে পদত্যাগ করলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অম্বিকা যশসহ মোট ছয়জন কর্মাধ্যক্ষ। গত বুধবার জেলা সভাধিপতি এবং বর্ধমান সদরের মহকুমাশাসকের কাছে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই সীমাহীন অভ্যন্তরীণ কাজিয়া, তোলাবাজি ও দুর্নীতির জাঁতাকলে পড়ে গ্রামীণ স্তরের সাধারণ মানুষের উন্নয়ন ব্যবস্থা আজ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেছে।
পদত্যাগীদের বিস্ফোরক অভিযোগ, এলাকার বিডিও সরকারি নিয়ম কানুন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নির্বাচিত সভাপতিকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে তৃণমূল নেতা শ্যামল দত্তর নির্দেশ মতো পুতুলের মতো চলছেন। অর্থ উপ-সমিতি বা সাধারণ সভার কোনো বৈঠক না ডেকেই কোটি কোটি টাকার সরকারি কাজের ভুয়ো টেন্ডার করে নিজেদের পকেট ভরছে তৃণমূলের একাংশ। এমনকি এলাকার সরকারি মূল্যবান গাছ কেটে বেআইনিভাবে পাচার করে দেওয়ার মতো গুরুতর পরিবেশ ও আর্থিক কেলেঙ্কারিও দেদার চলছে শাসকদলের ছত্রছায়ায়। এলাকায় কোনো উন্নয়নমূলক কাজ না হওয়ায় এবং ঘরে ঘরে কাটমানির জুলুম চলায় তৃণমূলের এই জনপ্রতিনিধিরা এখন সাধারণ জনগণের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ছেন, আর সেই কারণেই মানুষের মার খাওয়ার ভয়ে পদে না থাকাই শ্রেয় বলে মনে করছেন তাঁরা।
যদিও নিজের পিঠ বাঁচাতে সমস্ত অভিযোগ ফালতু বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শ্যামল দত্ত। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রামীণ স্তরে যেভাবে তৃণমূল নেতারা প্রশাসনের একাংশকে সঙ্গে নিয়ে জোট বেঁধে সরকারি তহবিল পকেটস্থ করছেন এবং সিন্ডিকেট রাজ চালাচ্ছেন, তা বাংলার আম জনতার জন্য এক চরম অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপর থেকে নিচ—তৃণমূলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া এই দুর্নীতির সংস্কৃতিই আজ বর্ধমানের এই গণইস্তফার মাধ্যমে আবারও রাজ্যবাসীর সামনে ফাঁস হয়ে গেল।


