রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক ইশতেহার প্রকাশের পর। সেখানে সরকার দাবি করেছে, ২০২৩ সাল থেকে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে স্কুলছুটের সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে। এই ঘোষণাকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হলেও, বিভিন্ন তথ্য বলছে অন্য কথা।সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এই হার আবার বাড়তে শুরু করেছে। প্রাথমিক স্তরের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া পড়ুয়াদের মধ্যে প্রায় ২.৪ শতাংশ স্কুল ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে এই হার প্রায় ৩ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের দাবির সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার স্পষ্ট ফারাক রয়েছে।শুধু প্রাথমিক স্তর নয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ছবিটাও উদ্বেগজনক। জানা যাচ্ছে, গত শিক্ষাবর্ষে এই স্তরে স্কুলছুটের হার প্রায় ২০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দেশের মধ্যে অন্যতম বেশি। অথচ এই তথ্য ইশতেহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে।শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। অনেকেই মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছে। কেউ শ্রমিক হিসেবে কাজ নিচ্ছে, আবার কেউ পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে পরিবারের সহায়তা করছে। এর ফলে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ভেঙে যাচ্ছে।শিক্ষকদের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবম শ্রেণিতে যে সংখ্যক ছাত্রছাত্রী নাম নথিভুক্ত করে, তার অনেকেই দশম শ্রেণিতে পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে যায়। এমনকি যারা দশমে পৌঁছায়, তাদের মধ্যেও অনেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে না। এই প্রবণতা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে।অন্যদিকে, শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, তার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রতিটি ব্লকে আবাসিক স্কুল তৈরির কথা বলা হলেও, বহু জায়গায় সেই কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও জটিলতা ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে বহু পদ ফাঁকা পড়ে আছে।বর্তমানে রাজ্যের বহু স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। কিছু স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পড়ানো হচ্ছে, আবার কোথাও কোনো পড়ুয়াই নেই। পরিসংখ্যান বলছে, হাজার হাজার স্কুলে শিক্ষকসংকট প্রকট। এমনকি অনেক জায়গায় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় অন্য স্কুল থেকে শিক্ষক এনে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।মাদ্রাসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে। এতে শিক্ষার মান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।সব মিলিয়ে, শিক্ষাব্যবস্থার যে চিত্র সামনে আসছে, তা নিয়ে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। উন্নয়নের দাবি থাকলেও, বাস্তব পরিস্থিতি কতটা পরিবর্তিত হয়েছে, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।
Popular Categories


