বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার জাতীয় স্তরেও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দিন কয়েক আগেই চিঠি দিয়ে এনডিএ (NDA) ব্লকে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন একদল ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদ। কারা এই তালিকায় রয়েছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এতদিন তুমুল জল্পনা চলছিল। অবশেষে শুক্রবার সেই ১৯ জন সাংসদের সই করা চাঞ্চল্যকর চিঠিটি প্রকাশ্যে আসায় তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে।
প্রকাশ্যে আসা নথিতে দেখা যাচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়ার মতো তারকারা। সবচেয়ে বড় চমক, তালিকায় রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা দলের যুব সভাপতি সায়নী ঘোষ এবং ডায়মন্ড হারবারের বাপি হালদারের নাম। এছাড়াও দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, মালা রায়, পার্থ ভৌমিক, অরূপ চক্রবর্তী, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানও এই বিদ্রোহী শিবিরে সই করেছেন। তালিকায় আরও আছেন মিতালি বাগ, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, কালীপদ সোরেন, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, শর্মিলা সরকার ও অসিত মাল।
সূত্রের খবর, গত ৯ জুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একটি গোপন বৈঠকে প্রথমে ১৪ জন সাংসদ সই করেন। পরে সায়নী, রচনা ও ইউসুফ পাঠানসহ আরও ৫ জন তাতে যোগ দেন। এর আগেই ঋতব্রত-পন্থীদের বিদ্রোহের জেরে বিধানসভায় পরিষদীয় দলের রাশ হারিয়েছিলেন মমতা। এবার সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে এনডিএ-কে সমর্থন করার এবং সংসদে বসার আসন আলাদা করার চূড়ান্ত দাবি জানাবেন এই ১৯ জন সাংসদ। আগামী রবিবার রাতেই তাঁরা দিল্লি পৌঁছাচ্ছেন এবং একটি নৈশভোজে পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করা হবে। এই মহ ভাঙনের জেরে দিল্লিতে তৃণমূলের সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত পুরোপুরি হাতছাড়া হলো ঘাসফুল শিবিরের।


