ত্রিপুরার ফাতিকরোয়ীর সৈদারপাড়া-শিমুলতলা ও কুমারঘাট এলাকায় শনিবার সকালে এক অশান্ত পরিবেশ দেখা যায়। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, হিন্দুত্ববাদী কিছু গোষ্ঠী মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছে ত্রাণ ও চাঁদা সংগ্রহের সময় হেনস্থা করার পর তাদের বাড়ি, দোকান ও একটি মসজিদে আগুন লাগিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হিংসা ছড়ানো কার্যক্রমে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়। ফলে এলাকায় ভয়, অসহায়তা ও রাগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, সকালে চাঁদার জন্য কিছু লোক তার দোকানে আসে। তিনি জানান, তিনি ইতিমধ্যেই টাকা দিয়েছেন এবং কিছুদিনের মধ্যে আরও দিতে পারবেন। কিন্তু তারা তা মানেনি এবং তাত্ক্ষণিকভাবে টাকা চাইতে থাকে। এরপর তাকে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা বিভিন্ন অস্ত্র ও জিনিসপত্র দিয়ে আঘাত করে।
মারধরের পরে তার বাড়ি, ট্রাক্টর ও কৃষি সরঞ্জামেও আগুন লাগানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তখনও উপস্থিত ছিল কিন্তু কিছু করেনি। আধা ঘণ্টা পর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন, তখন অনেক ক্ষতি ইতিমধ্যেই ঘটে গেছে। স্থানীয় সমাজসেবক মাওলানা আব্দুল মালিক জানান, সকাল ৯টার দিকে চাঁদার দাবি নিয়ে প্রথম সংঘর্ষ হয়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হিংসার দিকে। তারা পাঁচ-ছয়টি বাড়ি, দোকান ও সৈদারপাড়া মসজিদে আগুন জ্বালায় এবং কবরস্থানে ক্ষতি করে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কার্যক্রমের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং দোষীদের শনাক্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি করেছে। তারা বলেন, এই হিংসার ঘটনা মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়ের প্রতি বড় প্রশ্ন তুলে এনেছে।


