গত পাঁচ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জাতভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সংসদের স্থায়ী কমিটি এবং সুপ্রিম কোর্টে যে তথ্য পেশ করেছে, তাতে এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে যেখানে এই ধরনের অভিযোগের সংখ্যা ছিল ১৭৩টি, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৮টিতে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে অভিযোগ প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
ইউজিসির দেওয়া তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত সময়ে মোট ১১৬০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এই অভিযোগগুলি এসেছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে থাকা ইক্যুয়াল অপারচুনিটি সেল এবং এসসি/এসটি সেলের মাধ্যমে। মোট ৭০৪টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৫৫৩টি কলেজ থেকে এই অভিযোগগুলি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে ইউজিসি জানিয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি অভিযোগের সমাধান হয়েছে।
বছরভিত্তিক পরিসংখ্যানেও অভিযোগ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা চোখে পড়ে। ২০২০-২১ সালে অভিযোগের সংখ্যা ছিল ১৮২টি, পরের বছর সামান্য বেড়ে হয় ১৮৬টি। ২০২২-২৩ সালে তা পৌঁছয় ২৪১টিতে এবং ২০২৩-২৪ সালে হঠাৎ বড় বৃদ্ধি ঘটে। ইউজিসির এক সিনিয়র আধিকারিকের দাবি, এই বৃদ্ধির পেছনে একটি বড় কারণ হল পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। এখন অনেক বেশি ছাত্রছাত্রী জানেন কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ জানাতে হয়। ইক্যুয়াল অপারচুনিটি সেল ও এসসি/এসটি সেলগুলিও আগের তুলনায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে তার মত। যদিও শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, শুধুমাত্র উচ্চ নিষ্পত্তির হার দেখেই পরিস্থিতিকে স্বস্তিকর বলা যায় না। তাদের মতে, মুল সমস্যাগুলি কতটা গভীরে গিয়ে সমাধান হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।


