ব্রিটেনের একটি কারাগারে আটক থাকা ফিলিস্তিনপন্থী দুই তরুণ আন্দোলনকারীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ফলে তারা এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। চিকিৎসক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
কারাবন্দি এই দুই জন হলেন ৩১ বছরের হেবা মুরাইসি এবং ২৮ বছরের মেকানিক কামরান আহমেদ। তারা দু’জনেই ব্রিটেনভিত্তিক একটি ইসরাইলি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। আটকের প্রতিবাদ এবং নিজেদের দাবির পক্ষে চাপ সৃষ্টি করতে তারা টানা অনশন শুরু করেন। হেবা প্রায় ৬৭ দিন এবং কামরান প্রায় ৬০ দিন ধরে খাবার গ্রহণ বন্ধ রেখেছেন।
সূত্রের খবর, হেবা মুরাইসির শারীরিক অবস্থা সবচেয়ে বেশি সংকটজনক। অতিরিক্ত ওজন হ্রাস এবং শ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। রক্তের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও মারাত্মকভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে কামরান আহমেদের বাম কানের শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে এবং তার হৃদস্পন্দন বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা জানিয়েছেন, প্রতিবার সাক্ষাতে তারা চরম আশঙ্কার মধ্যে থাকেন।
এই দুই আন্দোলনকারী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামক একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়। ব্রিস্টল এবং অক্সফোর্ডশায়ারে সামরিক স্থাপনার কাছে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। গত বছর ব্রিটিশ সরকার ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
অনশনকারীদের দাবি, তাদের জামিনে মুক্তি দিতে হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি তারা ব্রিটেনে ইসরাইলি অস্ত্র কারখানা বন্ধের দাবিও তুলেছেন। চিকিৎসকদের মতে, এই অনশন চলতে থাকলে যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবুও ব্রিটিশ সরকার বা বিচার মন্ত্রণালয় এখনও আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দেয়নি, যা নিয়ে মানবাধিকার মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।


