পাঁচ বছরেরও বেশি সময় জেলে থাকার পর মানবাধিকার কর্মী উমর খালিদের গ্রেফতার ও আটক নিয়ে বড় মন্তব্য করল রাষ্ট্রসংঘের একটি বিশেষ সংস্থা। রাষ্ট্রসংঘের ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আর্বিট্রারি ডিটেনশন’ -এর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উমর খালিদের আটক চারটি আলাদা ভিত্তিতে ‘অযৌক্তিক’ বা বেআইনি বলে গণ্য হয়।সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, উমর খালিদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে মূলত তাঁর মতপ্রকাশের অধিকার, শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়ার অধিকার, সংগঠন করার অধিকার এবং জনজীবনে অংশগ্রহণের অধিকারের জন্য। অর্থাৎ, যেসব অধিকার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে স্বীকৃত, সেই অধিকার প্রয়োগ করতেই তিনি শাস্তির মুখে পড়েছেন বলে মত ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আর্বিট্রারি ডিটেনশন’-এর।উল্লেখ্য, ২০২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ হয়, সেখানে অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন উমর খালিদ। এই আইনে মুসলিমদের জন্য দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই তাঁকে সহ একাধিক মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ের।গ্রেফতারের পর থেকেই উমর খালিদ জেলে রয়েছেন। একাধিকবার জামিনের আবেদন করা হলেও তা খারিজ হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, গ্রেফতারের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তাঁর মামলার বিচার শুরুই হয়নি। রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, উমর খালিদের মতো শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বা মতপ্রকাশ আন্তর্জাতিক আইনে সুরক্ষিত। তাই তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর জন্য ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।২০২৫ সালের মার্চ মাসে ‘হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন’ উমর খালিদের পক্ষে ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আর্বিট্রারি ডিটেনশন-এর কাছে একটি আবেদন জমা দেয়। সেই আবেদনে বলা হয়, তাঁর গ্রেফতার আইনি ভিত্তিহীন, বৈষম্যমূলক এবং সম্পূর্ণভাবে তাঁর মৌলিক অধিকার প্রয়োগের ফল।এই আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, মামলায় ন্যায্য বিচারের নানা নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। অস্পষ্ট আইনি ধারা ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিচার শুরুর আগেই দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে জেলে রাখা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন-এর অভিযোগ রাষ্ট্রসংঘ ভারত সরকারের কাছে পাঠালেও, সরকার এই বিষয়ে কোনও জবাব দেয়নি।
Popular Categories


