ওয়াকফ সম্পত্তি ‘উমিদ’ পোর্টালে নথিভুক্ত করার শেষ তারিখ ৩ মার্চ। হাতে সময় আছে আর মাত্র দুই সপ্তাহের মতো। এর মধ্যেই তেলেঙ্গানায় বহু মুতাওয়াল্লি সমস্যায় পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, আবেদন জমা দেওয়ার পর হঠাৎ করেই তা বাতিল হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কেন বাতিল হচ্ছে সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট কারণ জানানো হচ্ছে না। এমনকি অনেকেই আবার জানতেও পারছেন না যে তাদের আবেদন খারিজ হয়েছে।
জানা গেছে, যারা ‘উমিদ’ পোর্টালে তথ্য আপলোড করছেন, তারা একটি প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাচ্ছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতর যদি আবেদন নাকচ করে দেয়, সে বিষয়ে আবেদনকারীকে আলাদা করে কোনও বার্তা দেওয়া হচ্ছে না। পোর্টালে ‘প্রক্রিয়াধীন’ লেখা থাকলেও বাস্তবে আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।
এই বিষয়টি সামনে আসে যখন কয়েকজন মুতাওয়াল্লি নিজেরাই পোর্টালে পূনরায় লগ-ইন করে আবেদনপত্রের অবস্থা পরীক্ষা করেন। তেলেঙ্গানার মুতাওয়াল্লি এস. এম. ইব্রাহিম হুসাইনি জানান, তিনি নিয়মিতভাবে পোর্টালে ঢুকে আপডেট দেখছিলেন। হঠাৎ দেখেন তার সম্পত্তির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে বাতিলের কারণ উল্লেখ নেই, এমনকি কোনও দপ্তর থেকেও যোগাযোগ করা হয়নি।
মহম্মদ শুকুর মসজিদের মুতাওয়াল্লি সৈয়দ ফজল পারভেজও একই অভিযোগ করেন। তার দাবি, নথি জমা দেওয়ার পরেও কোনও ত্রুটির কথা জানানো হয়নি। তেলেঙ্গানা ওয়াকফ বোর্ডের সদস্য সৈয়দ বন্দেগি বাদেশা কাদরীর মতে, এটি একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ত্রুটি। তিনি বলেন, অনেক আবেদন কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই খারিজ হচ্ছে এবং সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না। আবেদন বাতিল হলে এসএমএস, ইমেল বা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো উচিত বলেও তিনি মত দেন।
কাদরী আরও অভিযোগ করেন, সিইও দপ্তরে কাজের গতি ধীর। সংশ্লিষ্ট আধিকারিক একাধিক দায়িত্বে থাকায় ফাইল নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
এদিকে তেলেঙ্গানা ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজমতুল্লাহ হুসাইনি পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছেন। বোর্ডের সদস্য আকবর নিজামুদ্দিনও জানান, নথি জমা পড়লেও যাচাই ও অনুমোদনে দীর্ঘ সময় লাগছে, ফলে আবেদনকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন।


