এই বছর রমজান মাসের মধ্যেই হোলি উৎসব পড়ায় উত্তরপ্রদেশের মুসলিম নেতাদের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। সাধারণত রমজানে মসজিদগুলিতে নামাজের সময় ভিড় বেশি থাকে। অন্যদিকে হোলির সময় বিভিন্ন এলাকায় শোভাযাত্রা বের হয়। এই দুই পরিস্থিতি একসঙ্গে পড়ায় যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আগাম ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।রাজ্যের একাধিক জায়গায় মসজিদের পাশ দিয়ে হোলির মিছিল যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে মুসলিম নেতাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সব কিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় শান্তি কমিটির সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে সরকারকে। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।মাওলানা খালিদ রাশিদ ফিরাংগি মাহালি সকলকে সংযম ও সহনশীলতার বার্তা দিয়েছেন। তিনি অনুরোধ করেছেন, নামাজের সময়সূচিতে প্রয়োজন হলে সামান্য পরিবর্তন মেনে নেওয়ার জন্য। বিশেষ করে জোহর ও জুম্মার নামাজের সময় নিয়ে যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সে দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের প্রধান মাওলানা সাহাবুদ্দিন রিজভিও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাই মানুষকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। মুসলিমদের অযথা বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে।গত বছর সম্ভল জেলায় হোলির সময় কিছু অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্ভল ও শাহজাহানপুর মিলিয়ে প্রায় ৬০টি মসজিদের চারপাশে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছু জায়গায় মসজিদের দেয়াল ঢেকে দেওয়ার কাজও হয়েছে, যাতে বাইরে থেকে কেউ রং নিক্ষেপ করতে না পারে।
হোলির আগে উত্তরপ্রদেশে মসজিদ ঘেরা শুরু, শান্তি বজায় রাখতে সংযমের ডাক মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের!
Popular Categories


