উত্তরপ্রদেশের মেরাট জেলার সারধনা এলাকায় এক কাশ্যপ সম্প্রদায়ের যুবকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে একাধিক বিরোধী দল। তাদের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঘটনাটি ঘটেছে সারধনা তহসিলের জ্বালাগড় গ্রামে। অভিযোগ, কাশ্যপ সম্প্রদায়ের এক যুবককে হত্যা করে তার দেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ভয়াবহ ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি বলেন, কাশ্যপ সমাজের ওই যুবকের উপর যে নির্মম অত্যাচার হয়েছে, তার বিরুদ্ধে পুরো পিডিএ সমাজের হয়ে তারা আওয়াজ তুলছেন। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
বহুজন সমাজ পার্টির সুপ্রিমো মায়াবতীও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তার কথায়, এই অপরাধ যত কঠোর ভাষায় নিন্দা করা হোক না কেন, তা যথেষ্ট নয়। সমাজে যাতে অপরাধী ও অসামাজিক শক্তিরা আইনের ভয় পায়, সে জন্য প্রশাসনের লাগাতার নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ভীম আর্মির প্রধান ও সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদও। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, নিহত যুবক রণু কাশ্যপকে প্রথমে মদ্যপান করানো হয়, তারপর প্রায় ৮০ হাজার টাকা লুট করা হয় এবং শেষে তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। তার মতে, এটি শুধু খুন নয়, মানবতাকে লজ্জায় ফেলে দেওয়ার মতো অপরাধ। সব অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিহতের পরিবারকে নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে ৫ জানুয়ারি আখেপুর-রারধনা রোডে। মৃত যুবকের নাম রোহিত ওরফে সোনু, বয়স ২৮ বছর। তিনি মুজফফরনগরের বাসিন্দা এবং মুম্বইয়ে মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন। বিয়ের সম্বন্ধ খোঁজার জন্যই তিনি গ্রামে ফিরেছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় অভিযুক্ত একজন ১৬ বছরের টেম্পো চালক। তাকে কিশোর বিচার বোর্ডে পেশ করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, জোরে গান বাজানো নিয়ে ঝামেলার পর অভিযুক্ত রোহিতকে মদ খাওয়ায় এবং ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করে। পরে পরিচয় লুকোতে দেহ টেনে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনাস্থলে পাওয়া মদের প্যাকেটের সূত্র ধরে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে।


