উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে নয় বছর আগে জাতীয় সড়কে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অপরাধের ঘটনায় অবশেষে রায় ঘোষণা করল নিম্ন আদালত। মা ও মেয়ের উপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই রায়ে স্বস্তি পেল নির্যাতিত পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই। একটি পরিবার গাড়ি করে নয়ডা থেকে শাহজাহানপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে ৯১ নম্বর জাতীয় সড়কে আচমকাই কয়েক জন দুষ্কৃতী তাদের গাড়ির সামনে বাধা দেয়। প্রথমে ডাকাতির উদ্দেশ্যেই গাড়ি থামানো হয়েছিল বলে জানা যায়। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা ও অন্যান্য জিনিস লুট করার পরও অপরাধীরা সেখানে থামেনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা জোর করে গাড়ি থেকে মা ও মেয়েকে নামিয়ে একটি ফাঁকা মাঠে নিয়ে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনেই ওই দু’জনকে ধর্ষণ করা হয়। প্রকাশ্য রাস্তায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে।
মামলা চলাকালীন অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। বাকি পাঁচ জনের বিরুদ্ধে বিচার চলতে থাকে। সাক্ষ্যপ্রমাণ, চিকিৎসা রিপোর্ট এবং ফরেনসিক তথ্যের ভিত্তিতে আদালত শেষ পর্যন্ত তাদের অপরাধ প্রমাণিত বলে মনে করে। সরকারি পক্ষ জানায়, এই মামলায় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। নির্যাতিতা মহিলার পোশাক থেকে অভিযুক্তদের একজনের ডিএনএ মেলায় তদন্ত আরও জোরদার হয়।
রায় ঘোষণার পর সরকারি আইনজীবী বলেন, এই ধরনের নৃশংস অপরাধ সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। আদালতের এই সিদ্ধান্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিল। তার মতে, এমন অপরাধে কঠোর শাস্তি না হলে সমাজে ন্যায়বিচারের উপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। এই রায়ের মাধ্যমে বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


