মার্কিন কংগ্রেসের একটি বিশেষ প্যানেলের নতুন প্রতিবেদনে ফের সামনে এসেছে এই বছরের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের বিষয়টি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে চার দিনের সীমান্ত সংঘর্ষে পাকিস্তান যে সামরিক সুবিধা পেয়েছিল, তার অন্যতম কারণ ছিল চীনের উন্নত মানের অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশন তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই সংঘাতকে বেইজিং নিজেদের আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থার পরীক্ষা ও প্রচারের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলার পর দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়, তা সাম্প্রতিক দশকগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কমিশনের মতে, পাকিস্তানের সামরিক সাফল্যের বড় অংশটাই এসেছে চীনা প্রযুক্তির দৌলতে। যদিও সংঘাতের সূচনায় চীনের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না, তবুও তারা পুরো পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অস্ত্রের ক্ষমতা তুলে ধরেছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তান চীনের আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে ভারতের ফরাসি রাফালে যুদ্ধবিমান নামিয়ে আনতে সক্ষম হওয়া চীনের অস্ত্র রপ্তানির প্রচারে বড় ভূমিকা নেয়। সংঘাতের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিভিন্ন দেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এই সাফল্যের কথা তুলে ধরে নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালায়।
রিপোর্টে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই সাফল্যের প্রচার এশিয়ার অন্যান্য দেশেও প্রভাব ফেলেছে। এমনকি ইন্দোনেশিয়া রাফালে কেনার প্রক্রিয়া স্থগিত করে চীনা বিকল্পের দিকে ঝুঁকেছে বলে দাবি করা হয়েছে। কমিশন মনে করে, পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেদনটি আরও ইঙ্গিত করে যে চীন-ভারত সীমান্ত সমস্যার সমাধানে দুই দেশের অগ্রাধিকার ভিন্ন। ভারত দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান চায়, অন্যদিকে চীন উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ব্যবহার করে সীমিত অগ্রগতি দেখাতে আগ্রহী। শেষ পর্যন্ত কমিশন বলছে, ২০২৫-এর চুক্তির পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়।


