আমেরিকার মাটিতে পা দিয়েই বিতর্কের মুখে পড়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল। একদিকে খামখেয়ালিপনার জন্য পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যদিকে নানা কারণে বিতর্কিত ফিফা প্রধান জিয়ানি ইনফান্তিনো। এই দুই রাষ্ট্র ও ক্রীড়া প্রধানের অধীনে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই চরম বিশৃঙ্খলা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ফুটবল দুনিয়ায়।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভিসা নীতি এবং ফুটবলারদের প্রতি করা আচরণ নিয়ে। ইরান ও আমেরিকার রাজনৈতিক শত্রুতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে খেলার মাঠে। ইরানের বহু কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীদের ভিসা দেয়নি মার্কিন প্রশাসন। ফুটবলারদের দেওয়া হয়েছে মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ভিসা, যার ফলে ম্যাচ খেলেই তাঁদের মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হবে। রাতারাতি টিকিট বাতিল করা হয়েছে ইরানি সমর্থকদেরও। একইভাবে ভিসা পাননি সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান। সেনেগাল ও উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের সঙ্গে রীতিমতো জঙ্গিদের মতো আচরণ করে পুলিশ কুকুর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। ইরাকের ফুটবলার আয়মেন হুসেনকে টানা সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। চরম গাফিলতির প্রমাণ দিয়ে লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনা দলের ফুটবলারদের পাসপোর্টের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে, অথচ বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা এ নিয়ে পুরোপুরি নীরব।
এর বাইরে ফুটবলপ্রেমীদের ওপর সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে টিকিটের আকাশছোঁয়া দামের কারণে। প্রথম সারির ম্যাচের টিকিটের দাম প্রায় দশ লক্ষ টাকা এবং সাধারণ ম্যাচের টিকিটও পাঁচ লক্ষ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যাতায়াত ও হোটেলের খরচ মেলালে সাধারণ সমর্থকদের পকেট পুরোপুরি ফাঁকা হওয়ার জোগাড়। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমেরিকার আইন বিভাগ তদন্তও শুরু করেছে। পাশাপাশি কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষ বাড়ার আশঙ্কা করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তবে এত কিছুর পরেও ট্রাম্প কিংবা ইনফান্তিনো কোনো সমালোচনাতেই কান দিতে রাজি নন। তাঁদের দাবি, এটিই ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ হতে চলেছে।


