উত্তর বারাকপুরের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরকে ঘিরে। সম্প্রতি দলের অন্দরে একাধিক অভিযোগ তুলে আলোচনায় এসেছিলেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শ্রাবণী কাশ্যপী। সেই আবহের মধ্যেই তার বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন প্রাক্তন সাংসদ ও বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। এই সাক্ষাৎকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। অনেকেরই প্রশ্ন, তবে কি শাসক দল ছাড়তে চলেছেন ওই কাউন্সিলর।
অর্জুন সিংয়ের উপস্থিতিতেই শ্রাবণী কাশ্যপী প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন নিজের দলের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, কাউন্সিলর হয়েও তিনি দলের মধ্যে সম্মান পাননি। কাজের কথা বললেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অপমান সহ্য করতে হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন তিনি। তার বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে ওই দলে আর কাজ করা সম্ভব নয় এবং তাই তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ভাবছেন।
এই ঘটনায় আরও তাৎপর্য যোগ করেছে শ্রাবণীর স্বামী মৃণ্ময় কাশ্যপীর বক্তব্য। এক সময় তিনি তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃণ্ময় জানান, রাজনৈতিক কারণে অতীতে নানা সম্পর্ক থাকলেও এখন সে সব নিয়ে কথা বলতে চান না। তার দাবি, কঠিন সময়ে অর্জুন সিং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেই কারণেই বিজেপির প্রতি তারা আগ্রহী।
অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে অর্জুন সিংও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, খাদ্য কেলেঙ্কারি নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা প্রকাশ্যে আসার পিছনে মৃণ্ময়ের ভূমিকা ছিল। যদিও বিজেপিতে যোগদান নিয়ে তিনি জানান, সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাদের, দল আবেদন পেলে তা খতিয়ে দেখবে। ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। বারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, কাউন্সিলরের স্বামী অনেক দিন ধরেই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তাই এতে নতুন কিছু নেই। সব মিলিয়ে এই সাক্ষাৎ উত্তর বারাকপুরের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।


