উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ জেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সাত বছরের এক পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে নাগলা সাধু গ্রামে চলন্ত স্কুলবাস থেকে পড়ে গিয়ে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে তার প্রাণ যায় পড়ুয়ার। ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে মৃত শিশুটির নাম অনন্যা। সে আলিগড় জেলার মাউন্ট ডেভ ইন্টারমিডিয়েট স্কুলের কিন্ডারগার্টেনের ছাত্রী ছিল। প্রতিদিনের মতো সেদিনও স্কুল ছুটির পর বাসে করে বাড়ি ফিরছিল অনন্যা। বাসে তার দাদাসহ আরও কয়েকজন পড়ুয়া ছিল।
পরিবারের অভিযোগ, বাসের পেছনের চাকার কাছে যে সিটে অনন্যা বসেছিল, হঠাৎ করেই একটি অংশ ভেঙে যায় এবং অনন্যা সেখান দিয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। তখন বাসটি চলন্ত অবস্থায় ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাসের ভেতরে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার শুরু করলেও চালক সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামাননি। প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মিটার যাওয়ার পর এক ট্যাক্সিচালক বিষয়টি দেখে বাসটি আটকে দেন এবং চালককে জানান।
অভিযোগ আরও গুরুতর হয় যখন অনন্যাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে চালক প্রথমে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। এতে চিকিৎসা পেতে দেরি হয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষ ও অনন্যার আত্মীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা আলিগড়-কাসগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বাসচালকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন। উত্তেজিত জনতা বাসে ভাঙচুর চালায় এবং চালককে মারধর করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বাস ও চালককে আটক করে।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর গঙ্গিরি থানায় স্কুলের ম্যানেজার অরবিন্দ যাদব ও বাসচালক চন্দ্রপ্রকাশের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, বাসের মেঝেতে প্রায় আড়াই ফুট বাই আড়াই ফুট একটি বড় গর্ত ছিল, যা মারাত্মক বিপজ্জনক। এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও চালকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। স্কুলটি আলিগড় শহর থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে। প্রায় ৫০০ পড়ুয়া সেখানে পড়াশোনা করে। প্রতিদিন প্রায় ২৮ জন ছাত্রছাত্রীকে এই বাসে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হত।


