উত্তরাখণ্ডকে সাধারণত গো-বলয়ের একটি রাজ্য হিসেবেই দেখা হয়। রাজ্যটিতে বর্তমানে বিজেপি সরকারের শাসন চলছে। ২০১৮ সালে রাজ্য বিধানসভায় একটি কড়া ধর্মান্তর বিরোধী আইন পাশ করা হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আইন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, এই আইন আসলে সংখ্যালঘুদের হয়রানি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু মুসলিম নয়, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষজনও এই আইনের আওতায় হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।আইন কার্যকর হওয়ার প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে একাধিক ব্যক্তিকে ধর্মান্তকরণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু আদালতের নথি বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। বহু মানুষকে বছরের পর বছর জেলে থাকতে হয়েছে, পরে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।নির্দোষ হয়েও এই মানুষগুলোকে দীর্ঘ সময় জেলের অন্ধকারে কাটাতে হয়েছে। কাজ হারানো, সামাজিক সম্মান নষ্ট হওয়া এবং মানসিক চাপ,এই সবকিছুর দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন উঠছে নানান মহলে। পরিসংখ্যান বলছে, ধর্মান্তর আইনে হওয়া মামলার বড় অংশই আদালতে টেকেনি। ফলে অনেকেই বলছেন, এই আইন আদতে ধর্মান্তর ঠেকাতে নয়, বরং সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানো ও হেনস্থা করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরাখণ্ডের ধর্মান্তর আইন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলো এই আইন পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছে।
Popular Categories


