উত্তরাখণ্ডের চার ধাম মন্দিরগুলোতে অহিন্দুদের প্রবেশ সীমিত করার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বদ্রিনাথ ও কেদারনাথ মন্দির কমিটির এক সূত্র জানিয়েছে, কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, পরবর্তী বৈঠকে অহিন্দুদের মন্দিরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব আনা হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, হরিদ্বারের ঘাটেও এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তবে কমিটির অন্য একজন সদস্য এই দাবি খারিজ করেছেন। তিনি বলেছেন, এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে এখনও আলোচনা হয়নি। মন্দিরে বর্তমানে ধর্মানুষ্ঠান মেনে যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন। তিনি আরও বলেছেন, মন্দিরের আশেপাশের ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও স্থানীয় অন্যান্য মানুষের বেশিরভাগই অহিন্দু। তাদের প্রবেশ বন্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়। শিখ, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কোনো বাধা নেই।
গঙ্গোত্রী মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান ধর্মানন্দ সেনওয়াল জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এ ধরনের প্রস্তাব এসেছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেছেন, ‘অহিন্দু’ বা ‘নন-সনাতনী’ সংজ্ঞা এখনও নির্ধারিত হয়নি। রাজ্য সরকারের প্রশাসনও বিষয়টি নজরে রেখেছে। বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছে, এমন পরিকল্পনা সাম্প্রদায়িক বিভাজন বাড়াতে পারে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত এবং কংগ্রেস নেতা সূর্য কান্ত ধনসামা মনে করেন, চার ধাম ধর্ম ও পর্যটনের ক্ষেত্রে সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত।
উল্লেখ্য, চার ধাম শুধু তীর্থক্ষেত্র নয়, এটি পর্যটকদেরও আকর্ষণ কেন্দ্র। ২০২৫ সালে কেদারনাথে প্রায় ১৮ লক্ষ, বদ্রিনাথে ১৭ লক্ষ ও মোট চার ধামে ৫১ লক্ষ পর্যটক এসেছিলেন। বিরোধী নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের সীমাবদ্ধতা কার্যকর হলে পর্যটক সংখ্যা ও চার ধামের গুরুত্ব হ্রাস পেতে পারে।


