তিনি অভিমানী! কর্মক্ষেত্রে আত্মসম্মানবোধটাই তার কাছে শেষ কথা, যার জন্য পদের তোয়াক্কা করেন না। উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তাফা দিলেন জগদীপ ধনকড়। ইস্তফার কারণ কি শুধুই শারীরিক অসুস্থতা নাকি অন্য কিছু? জগদীপ ধনকড়ের ইস্তফা নিয়ে উঠছে নানান প্রশ্ন। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনগুলিকে নিয়ে যখন ইতিমধ্যে রাজনীতির পারদ তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়, উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনকড়ের ইস্তফা এক নতুন জল্পনার সৃষ্টি করেছে।

বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেও যথেষ্ট স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিমায় দেখা গেছিল উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়কে। অধিবেশনের প্রথম দিন বিচারপতি যশবন্ত বর্মার অপসারণকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বিরোধীদের আক্রমণের পূর্বাভাস পেয়েছিলেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। সেই অনুযায়ী নাতিদীর্ঘ বক্তৃতাও দিলেন তিনি। এই অধিবেশনের ৬ ঘন্টা পরেই ধনকড়ের বড় সিদ্ধান্ততে তোলপাড় ভারতীয় রাজনীতি। অধিবেশনের ৬ ঘন্টা পর উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানালেন ধনকড়। যদিও ধনকড় রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়ে তার ত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, এবং চিঠিতে পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ধনকড়ের পদত্যাগ করার অনুরোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তবে বিরোধী দলগুলি উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের শারীরিক অসুস্থতাকে নেহাত একটি অজুহাত বলে দাবি করছে। বিরোধীদের দাবি, এবছর বাদল অধিবেশন ৪২ দিন আগে সোনা করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন। ৪২ দিন ধনকড়ের শারীরিক অসুস্থতার কথা শোনা যায়নি। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, যদি এই পদত্যাগ স্বাস্থ্যের কারণেই হয়ে থাকে, তাহলে বাদল অধিবেশন শুরুর আগে তিনি পদত্যাগ করলেন না কেন?
উপরাষ্ট্রপতি পদে থেকে ধনকড়কে প্রায়শই ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা তথা সুপ্রিম কোর্টকে তীব্র আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছে। ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার উপর এমন আক্রমণ বিজেপির দলীয় সংগঠনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, বিচার ব্যবস্থার উপর প্রতিনিয়ত আক্রমণের মাশুল কি চকাতে হল তাকে? জানা যাচ্ছে আজ রাতেই জগদীপ ধনকড়ের উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা আবেদন গৃহীত হতে পারে।


