দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কোথাও শ্রেণিকক্ষের ঠিকমতো ছাদ নেই, কোথাও আবার পানীয় জল বা শৌচাগারের মতো ন্যূনতম সুবিধাও অনুপস্থিত। আবার এমন স্কুলের কথাও সামনে এসেছে, যেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত স্কুলে আসছেন না—এমন অভিযোগও রয়েছে। এই পরিস্থিতি তুলে ধরে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি চালাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। তাদের প্রচারের পর একাধিক রাজ্যের স্কুলের বাস্তব চিত্র নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করার দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় পড়ুয়ারাও সরব হয়েছে। এর মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় স্কুলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ে কড়াকড়ি করা হয়েছে। অযোধ্যার বেসিক এডুকেশন অফিসার বৃহস্পতিবার একটি নির্দেশ জারি করে জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া বাইরের কেউ স্কুলে ঢুকতে পারবেন না। বিশেষ করে ইউটিউবার বা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ছবি ও ভিডিও করতে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। অনুমতি ছাড়া কেউ স্কুলে ঢুকে ভিডিও করলে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
গত ১৭ আগস্ট বলরামপুরেও একই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জেলার আধিকারিক বিকাশ চন্দ্র শ্রীবাস্তবের মতে, পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখা এবং ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। উত্তরপ্রদেশের আজমগড়, বালিয়া, বস্তি, শ্যামলী এবং আগ্রাতেও একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু হয়েছে।
অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি স্কুল ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। বৃহস্পতিবার লাতুরের উজানি গ্রামের জেলা পরিষদ স্কুল পরিদর্শন করে তিনি রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, জনপ্রতিনিধিদের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত শিশুদের শিক্ষা ও স্কুলের পরিবেশ উন্নত করা। এই পরিস্থিতির জন্য মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেছেন তিনি।
স্কুলগুলির বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি এখন প্রশাসনের বিধিনিষেধ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে স্কুলের নিরাপত্তা ও পড়াশোনার পরিবেশ রক্ষার যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে স্কুলের সমস্যাগুলি প্রকাশ্যে আসার পথ সংকুচিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। ফলে আগামী দিনে এই নির্দেশিকা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।


