আসন্ন ১৮ ডিসেম্বর কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার পূর্বস্থলীতে আয়োজন করা হয় প্রস্তুতি বৈঠক। এই সভার আয়োজন করে বঙ্গীয় সংখ্যালঘু বুদ্ধিজীবী মঞ্চ। অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন মঞ্চের রাজ্য সভাপতি অধ্যাপক ওয়ায়েজুল হক। এছাড়া স্থানীয় বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মোল্লা, মাহমুদাল হক টুটুল, দেওয়ান আনিসুর রহমান, ডা. কোরবান আলি এবং আব্দুর রাজ্জাকসহ বিভিন্ন পদাধিকারী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অধ্যাপক হক দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, একজন মানুষের রাজনৈতিক মত এবং ধর্মীয় পরিচয় আলাদা দুটি ক্ষেত্র হলেও, বর্তমানে দুই বিষয়কে ইচ্ছাকৃত ভাবে মিশিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়াতে প্রশাসনিক ক্ষমতাকেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
বক্তৃতার সময় তিনি বীরভূমের সোনালি বিবির ঘটনা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিচয়ের ভিত্তিতে ওই মহিলাকে ভুলভাবে বিদেশি আখ্যা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে তিনি ফিরে এলেও তাঁর স্বামী ও নিকটজনরা এখনও সীমান্তের ওপারে আটকে রয়েছেন। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে মঞ্চ নিরন্তর আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, সেটিও এই সভায় আলোচিত হয়। অধ্যাপক হক বলেন, ধর্মীয় কাজে নিবেদিত এই সম্পত্তির বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ অনেক সময় মানুষের আস্থায় আঘাত করছে। নথিভুক্তি বা কাগজপত্র নিয়ে সমস্যায় পড়লে মঞ্চের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে অধ্যাপক হক ১৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক সংখ্যালঘু অধিকার দিবস উপলক্ষে ধর্মতলায় হতে যাওয়া বৃহত্তর জনসভায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ কামনা করেন।


