নিউজ ডেস্ক : কিছুদিন আগেই ইসরাইলি আগ্রাসন শেষ হয়েছে গাজায়। অস্ত্র বিরতি হয়েছে দুইপক্ষের মাঝেই। তারপর চুলচেরা বিশ্লেষন শুরু হয়েছে কোন পক্ষের কত লাভ ক্ষতি হয়েছে। ইসরাইলের দাবি, তারা গাজা ব্যাপী বিস্তৃত হামাসের গোপন টানেলের বেশিরভাগ বিমান হামলা চালিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দিতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু হামাসের তরফ থেকে বলা হয়েছে, গাজায় তাদের ৫০০ কিমি গোপন সুড়ঙ্গ আছে। ইসরায়েলি হামলায় মাত্র ৫% ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাজা উপত্যকার হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বুধবার বলেছেন, গাজায় হামাসের ৫০০ কিলোমিটার টানেল আছে। আর ইসরাইলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে মাত্র ৫ ভাগ টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাও আমরা খুব শীগ্রই মেরামত করে নেব। উল্লেখ্য ইসরাইলের তরফ থেকে হামাসের ১০০ কিমির বেশি গোপন টানেল ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ইসরাইলের সাথে অস্ত্রবিরতির পর প্রথম বক্তৃতায় সিনওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে ইসরাইলের অভ্যন্তরে তাদের ১০ হাজার ‘শহিদ’ রয়েছে। জেরুসালেম ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা ‘সাড়া দিতে প্রস্তুত।’
তিনি বলেন, আমরা সামনের দিকে জনপ্রিয় প্রতিরোধ পরিচালনা করব। আর এর পেছনভাগ সংরক্ষিত থাকবে সামরিক প্রতিরোধের মাধ্যমে।
সিনওয়ার বলেন, অস্ত্রবিরতি কার্যকর করার সামান্য আগে হামাস একসাথে ৩০০ রকেট নিক্ষেপ করার পরিকল্পনা করেছিল। এসব রকেটের ১৫০টি নিক্ষিপ্ত হতো তেল আবিবকে লক্ষ্য করে। কিন্তু মিসর ও কাতারি মধ্যস্ততাকারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আমরা তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি দাবি করেন, হামাসের ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পাল্লার মিনিটে ১০০টি রকেট নিক্ষেপ করার সক্ষমতা রয়েছে।
হামাসের এই নেতা জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে অস্ত্রবিরতি হলেও এখনো কোনো পক্ষ সমঝোতায় সই করেনি।
পুরো গাজা উপত্যকার আয়তন ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটার। সিনওয়ারের কথা যদি সত্য হয়, তবে এর অর্থ হলো, উপকূলীয় এই ছিটমহলটির বেশির ভাগ এলাকাতেই হামাসের টানেল রয়েছে। আর হামাসের টানেলের দৈর্ঘ্য লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল সিস্টেমের চেয়েও বড়।
সিনওয়ার জোর দিয়ে বলেন, আল-আকসা আর জেরুসালেম হলো আমাদের ‘রেড লাইন।’
তিনি বলেন, শত্রুরা যদি জেরুসালেম ও পবিত্র স্থানগুলোর কোনো ক্ষতি করে তবে আমরা আমরা আরো বড় যুদ্ধের জন্য তৈরী।


