ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে আবারও হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা দেইর ইসতিয়া গ্রামের একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে ভাঙচুর চালায়। জানা গিয়েছে, তার ঠিক আগের দিনই ইসরাইলি নেতারা এমন হামলার নিন্দা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নিন্দাকে উপেক্ষা করেই রাতের অন্ধকারে মসজিদের ভেতরে আগুন লাগানো হয় এবং দেয়ালে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি লেখা হয়।
জানা গিয়েছে, মসজিদের একটি দেওয়াল সম্পূর্ণভাবে কালো হয়ে গেছে, মেঝেতে পাতা কার্পেটগুলোর বেশ কিছু অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অন্তত তিনটি কুরআনের কপি সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত হয়েছে। দেয়ালে হিব্রু ভাষায় লেখা হয়েছে—“আমরা ভয় পাই না”, “আবার প্রতিশোধ নেব”, “নিন্দা করে লাভ নেই”—এই সব বার্তা দিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ এবং সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান মেজর জেনারেল আভি বুথকে, যারা বসতি স্থাপনকারীদের হামলার বিরল নিন্দা জানিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে পশ্চিম তীরে এমন হামলা ক্রমশ বাড়ছে। শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, মানবাধিকার সংস্থা থেকে শুরু করে বিদেশি প্রশাসন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
জাতিসংঘের মানবিক দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তরুণ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০০৬ সালে নজরদারি শুরু হওয়ার পর গত বছরের অক্টোবর মাসে হামলার সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল।
মঙ্গলবারও বেইত লিড ও দেইর শরাফ গ্রামে হামলা চালায় বলে জানা যায়। তারা গ্রামবাসীর গাড়ি ভাঙচুর করে, বেশ কিছু ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ফিলিস্তিনি নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, ইসরাইলি সেনা ও পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলা রুখতে ব্যর্থ হচ্ছে বরং নীরবে সহযোগিতা করছে হামলাকারীদের।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলি সরকারের ভেতরে চরম দক্ষিণপন্থী বসতি স্থাপন আন্দোলনের সমর্থকদের প্রভাব বাড়ছে।


