রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলতেই প্রশাসনিক মহলেও দ্রুত পালাবদল শুরু হয়েছে। আসন্ন সরকার গঠনের আগে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের সরে দাঁড়ানোর খবর সামনে এসেছে। এতে রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন শীর্ষ আমলাদের মধ্যে কয়েকজন মঙ্গলবারই নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, যাঁরা অতীতে রাজ্যের মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। অবসরের পরে তাঁদের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছিল। প্রশাসনিক কাজে তাঁদের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন ধরে কাজে লাগানো হচ্ছিল।
একই দিনে পদ ছেড়েছেন মনোজ পন্থও। তিনিও একসময় মুখ্যসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিব পদে বসানো হয়েছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনিও নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
এছাড়াও অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার তাঁর দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি রাজ্যের শিল্প সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার শীর্ষ পদে ছিলেন। শিল্পোন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়। এর পাশাপাশি, অতীতে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কমিশনের নেতৃত্বও তিনি দিয়েছিলেন, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রেখেছিল।
প্রশাসনিক স্তরের পাশাপাশি আইনি ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ছবি দেখা যাচ্ছে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তও তাঁর পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যেই রাজ্যপালের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে খবর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরেই এই ধরনের পদত্যাগের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে সাধারণত প্রশাসনিক স্তরে নিজেদের পছন্দমতো দল গড়ে নিতে চায়। ফলে আগের দায়িত্বে থাকা অনেকেই স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান, যাতে নতুন প্রশাসন নির্বিঘ্নে কাজ শুরু করতে পারে।


