রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে চিকিৎসক মহলে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া ছাড়াই একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসককে সিনিয়র রেসিডেন্ট পদে বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক চিকিৎসকের ভবিষ্যৎ পেশাগত পথও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে জানানো হয়, মোট ৯৩০ জন চিকিৎসককে সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ এবং জেলা হাসপাতালগুলিতে নিয়োগ করা হয়েছে। তবে এই তালিকা প্রকাশের পরই চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, এমন গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত কাউন্সেলিং করা হয়, যাতে প্রত্যেকে নিজের যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী কাজের জায়গা বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু এবার সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে দাবি উঠেছে।
চিকিৎসকদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তে অনেকের পেশাগত উন্নতির সুযোগ কমে যেতে পারে। এতদিন পর্যন্ত প্রচলিত নিয়ম ছিল, পাশ করার পর প্রথম বছর অধিকাংশ চিকিৎসককে মেডিক্যাল কলেজেই কাজের সুযোগ দেওয়া হতো। এতে তাঁদের অভিজ্ঞতা বাড়ত এবং ভবিষ্যতে মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু এবার যাঁদের জেলায় পাঠানো হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ডা. মানস গুমটা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন একজন হাউসস্টাফ নিয়োগের ক্ষেত্রেও কাউন্সেলিং করা হয়, তখন সিনিয়র রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কেন মানা হলো না। তাঁর দাবি, এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকদের সংগঠনের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের ছাপ দেখা যাচ্ছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নানা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
সংগঠনের নেতাদের মতে, পরিকাঠামো পর্যাপ্ত নয় এমন জায়গাতেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাঠানো হচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের কাজের পরিবেশ যেমন কঠিন হয়ে উঠছে, তেমনি রোগী পরিষেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক এই পোস্টিং নিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্যে।


