আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদনে একসঙ্গে ৮৩ জন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার (এআরও)-এর দায়িত্বে রদবদল করা হচ্ছে। রবিবার জারি হওয়া নির্দেশে এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে পাঠানো প্রস্তাব খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ আধিকারিকের বদলি বা নতুনভাবে দায়িত্ব বণ্টনে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট নাম ছাড়া বাকি সকলের ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তন কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই রদবদল শুধুমাত্র একটি বা দু’টি জেলায় সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—প্রায় সমস্ত জেলাতেই এর প্রভাব পড়বে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং বীরভূম—বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নতুন করে দায়িত্ব পাচ্ছেন বহু আধিকারিক। যাঁদের অনেকেই আগে সেই এলাকায় দীর্ঘদিন কাজ করেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন সামনে এলেই এই ধরনের বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একই জায়গায় দীর্ঘদিন কর্মরত আধিকারিকদের সরিয়ে দিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়ার মধ্যে দিয়ে ভোট পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। এতে প্রশাসনের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ে বলেও মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছে, ব্লক স্তরেই ভোট পরিচালনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়। ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে বুথ ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই এই স্তরের আধিকারিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই পর্যায়ে নিরপেক্ষ ও কার্যকর আধিকারিক নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে, রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হতে পারে। ভোটের আগে আরও কিছু প্রশাসনিক বদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে। নির্বাচন ঘিরে রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল যে ক্রমশ বাড়ছে, এই সিদ্ধান্ত তারই ইঙ্গিত বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


