প্রথম দফার নির্বাচন আর খুব বেশি দূরে নেই। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে শিগগিরই। এর মধ্যেই প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা খতিয়ে দেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্ম’ এবং ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচ’ যৌথভাবে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দফায় মোট ১৪৭৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪৫ জন নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
বিশেষ করে বিজেপির ক্ষেত্রে এই সংখ্যা বেশ চোখে পড়ার মতো। মোট ১৫২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই গুরুতর অভিযোগ। নন্দীগ্রামের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী-র বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শুধু একটি দলই নয়, অন্যান্য দলগুলির প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা আছে। শতাংশের হিসেবে সিপিএম প্রার্থীদের মধ্যেও কিছু সংখ্যক প্রার্থী আইনি সমস্যায় জড়িত। কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
রিপোর্টে আরও জানা গেছে, খুন বা খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত প্রার্থী রয়েছেন বহুজন। নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলাতেও কয়েকজন প্রার্থীর নাম রয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগও আছে।
এদিকে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থার দিকটিও সামনে এসেছে। মোট ৩০৯ জন প্রার্থী কোটিপতি। এর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তাদের অনেক প্রার্থীর সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার উপরে। সবচেয়ে ধনী প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন জাকির হোসেন, যার সম্পদের পরিমাণ একশো কোটিরও বেশি। এছাড়াও আরও কয়েকজন প্রার্থীর বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ভোটারদের সামনে বড় প্রশ্ন প্রার্থীদের অতীত রেকর্ড ও আর্থিক অবস্থা জেনে তারা কাকে বেছে নেবেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভোটের আগে এই তথ্যগুলি মানুষের জানা অত্যন্ত জরুরি, যাতে তারা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।


