দিল্লিতে কাজ করতে গিয়ে বড়সড় বিপাকে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের এক পরিযায়ী শ্রমিক পরিবার। ভুল পরিচয়ের অভিযোগে তাদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ বলে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কোনও সঠিক তদন্ত বা কাগজপত্র যাচাই না করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বীরভূম জেলার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সি সুইটি বিবি জীবিকার টানে দিল্লিতে গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহের কাজ করতেন। তার সঙ্গে ছিল দুই ছোট ছেলে—কুরবান ও ইমরান। গত ১৮ জুন দিল্লি তাকে আটক করে। একই সঙ্গে আরও একটি পরিবারকেও ধরা হয়। পরিবারের দাবি, তাদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি দেখানোর সুযোগই দেওয়া হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের বাংলাদেশ সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
পরে জানা যায়, সুইটি বিবি ও তার সন্তানরা ভারতীয় নাগরিক। তবুও তারা এখনও দেশে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি বাড়িতে কার্যত নজরবন্দি অবস্থায় রয়েছেন তারা। ফোনে সংবাদমাধ্যমকে সুইটি জানান, দিন গুনতে গুনতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তার বড় ছেলে ভারতে রয়েছে, মায়ের থেকে দূরে। ছোট দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি দুশ্চিন্তায়।
সুইটি বলেন, ঢাকায় কয়েক দিন রাস্তায় কাটানোর পর বাংলাদেশ পুলিশ তাদের আটক করে। প্রায় তিন মাস জেলেও থাকতে হয়েছে। জামিন পেলেও মুক্তভাবে চলাফেরার অনুমতি মেলেনি। একই ঘটনায় আটক গর্ভবতী সুনালি খাতুন ও তার শিশুকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভারতে ফিরিয়ে আনা হলেও সুইটির ক্ষেত্রে এখনও কোনও ব্যবস্থা হয়নি।
এই ঘটনা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও সমাজকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, দরিদ্র পরিযায়ী শ্রমিকদের সহজেই সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যা গুরুতর মানবিক সমস্যা তৈরি করছে। পুরো বিষয়টি এখন আদালতের নজরে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি হওয়ার কথা। সুইটি ও তার পরিবারের আশা, আদালতের হস্তক্ষেপেই হয়তো তাঁরা আবার নিজের দেশে, নিজের ঘরে ফিরতে পারবেন।


