ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের দাবি, আমেরিকা ও ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে দেশটির পরিস্থিতিকে অশান্ত করতে ‘ISIS’-এর মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যদের ভেতরে ঢুকতে সাহায্য করছে। মঙ্গলবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল আবদোলরহিম মৌসাভি এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধে ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও তেল আবিব সরাসরি হামলার বদলে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে। এই জঙ্গিরা সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালাচ্ছে বলে তাঁর দাবি। একই দিনে ইরানের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা স্বীকার করেন, গত দুই সপ্তাহের সংঘর্ষে প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ নাগরিক এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, তার বিস্তারিত হিসাব এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে সাধারণ মানুষের সংখ্যাই বেশি।
ইরান সরকার এই বিপুল প্রাণহানির জন্য সরাসরি বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছে। জেনারেল মৌসাভি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার উপর কোনও আঘাত সহ্য করা হবে না। নিরাপত্তা বাহিনী সংযম দেখালেও বিদেশি উসকানিদাতাদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলার হুমকি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সব ধরনের সামরিক বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


