উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে বিতর্কে জড়ালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শনিবার কোচবিহারের মাথাভাঙা এবং জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে জনসভা করেন তিনি। দু’টি সভাতেই তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
মাথাভাঙার সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে উত্তরবঙ্গকে ‘উত্তর বিহার’ বলে সম্বোধন করেন যোগী আদিত্যনাথ। পরে তিনি নিজের মন্তব্য সংশোধন করলেও তা ঘিরে বিতর্ক থামেনি। স্থানীয় মানুষের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।
তৃণমূলের অভিযোগ, নিছক ভুল নয়, বরং উত্তরবঙ্গের পরিচয় খর্ব করার রাজনৈতিক অভিসন্ধিই যোগীর মন্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি উত্তরবঙ্গের অস্তিত্ব নিয়েই রাজনীতি করতে চাইছে।
এর আগের দিন কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, সীমা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দেশের মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেই বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যোগীর মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে।
ধূপগুড়ির সভায় যোগী আদিত্যনাথ অনুপ্রবেশ ইস্যু তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানকেই সামনে আনেন। যদিও উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, চা শ্রমিকদের সমস্যা কিংবা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার প্রসঙ্গ তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসেনি বলে বিরোধীদের দাবি।
সভামঞ্চ থেকে ভোট-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী-ও তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ।
যদিও বিজেপির দাবি, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বক্তব্য বিকৃত করছে। তবে যোগী আদিত্যনাথের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।


