
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, তাঁর রাজ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, একটি মুসলিম পরিবার ১০০টি হিন্দু পরিবারের মাঝে নির্ভয়ে বসবাস করতে পারে এবং তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন, এর বিপরীত পরিস্থিতি সম্ভব নয়। অর্থাৎ, ৫০টি হিন্দু পরিবার ১০০টি মুসলিম পরিবারের মধ্যে নিরাপদ বোধ করবে না। এই মন্তব্যের সমর্থনে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করেছেন, যেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “একটি মুসলিম পরিবার যখন ১০০টি হিন্দু পরিবারের মধ্যে থাকে, তখন তারা সবচেয়ে নিরাপদ। কিন্তু ১০০টি মুসলিম পরিবারের মধ্যে ৫০টি হিন্দু পরিবার কি একইভাবে নিরাপদ থাকতে পারে? না। বাংলাদেশ এর একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। এর আগে পাকিস্তানেও এমনটি দেখা গেছে।” গত বছর আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর লক্ষ্য করে হামলা বেড়েছে। বেশ কয়েকজন পুরোহিত গ্রেফতার হয়েছেন, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর লুটপাটের শিকার হয়েছে এবং ইসলামিক কট্টরপন্থীরা ১৫০টিরও বেশি মন্দিরে ভাঙচুর চালিয়েছে।

এই সপ্তাহে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন সরকার আট বছর পূর্ণ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ২০১৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকে উত্তর প্রদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “উত্তর প্রদেশে মুসলমানরা সবচেয়ে নিরাপদ। হিন্দুরা যদি নিরাপদ থাকে, তবে তারাও নিরাপদ থাকে। ২০১৭ সালের আগে এখানে দাঙ্গা হলে হিন্দুদের দোকান জ্বলত, মুসলমানদের দোকানও জ্বলত। হিন্দুদের বাড়ি পুড়লে, মুসলমানদের বাড়িও পুড়ত। কিন্তু ২০১৭ সালের পর থেকে দাঙ্গা আর হয়নি।” একজন যোগী হিসেবে তিনি সবার সুখ ও শান্তি কামনা করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
বিভিন্ন রাজ্যে মন্দির-মসজিদ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। এই বিষয়ে যোগী আদিত্যনাথ “হিন্দু স্থানে” মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, এটি ইসলামিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে সাম্ভালে এই বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সাম্ভালে যতগুলো মন্দির আছে, সেগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে। গত বছর সাম্ভালের শাহী জামে মসজিদে আদালতের নির্দেশে জরিপ চলার সময় বড় ধরনের সহিংসতা হয়েছিল, যাতে পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে।তিনি বলেন, “সাম্ভালে ৬৪টি তীর্থস্থান রয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত ৫৪টি খুঁজে পেয়েছি। বাকিগুলোও আমরা খুঁজে বের করব। বিশ্বকে আমরা দেখাব, সাম্ভালে আসলে কী ঘটেছিল।”
যোগী আদিত্যনাথের এই মন্তব্যগুলো উত্তর প্রদেশে তাঁর সরকারের নীতি এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে। তবে, তাঁর এই বক্তব্য বিভিন্ন মহলে বিতর্ক এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তির কথা বলেছেন, সেখানে বাংলাদেশের উদাহরণ এবং মন্দির-মসজিদ বিতর্ক নিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।