পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের দুবরাজহাট গ্রামে আজও দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এক ঐতিহাসিক মসজিদ। এই মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির এক জীবন্ত নিদর্শন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু বছর আগে অসমের এক হিন্দু রাজা গুরুতর কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে এই এলাকায় আসেন। নানা চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি সুফি সাধক পীর আব্দুল মজিদের শরণাপন্ন হন। কথিত আছে, পীর সাহেবের ওজুর পানি রাজার শরীরে লাগতেই তিনি অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন। কৃতজ্ঞ রাজা উপহার দিতে চাইলে পীর আব্দুল মজিদ তা গ্রহণ করেননি। তবে তিনি গ্রামের ভাঙাচোরা ছোট মসজিদটি নতুন করে তৈরি করার অনুরোধ জানান। এরপর রাজা হাতি-ঘোড়ার সাহায্যে বড় বড় পাথর এনে মসজিদটি নির্মাণ করান। পাশাপাশি পীর সাহেবের ওজুর পুকুরের ঘাটও পাকা করে দেন। পরবর্তীকালে এক হিন্দু রাজমিস্ত্রি বংশী বাগদি মসজিদের সংস্কারের দায়িত্ব নেন। তাঁর দক্ষতায় মসজিদটি নতুন রূপ পায়। আজও এই মসজিদে মুসলিমরা নিয়মিত নামাজ পড়েন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণে সহযোগিতা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুবরাজহাট মসজিদ আজও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল বার্তা বহন করে চলেছে।


