
প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ধারাভাষ্যকারদের তালিকা থেকে এই প্রথম বাদ পড়েছেন সাবেক ক্রিকেটার ইরফান পাঠান। সূত্রে জানা গেছে, ধারাভাষ্যের সময় নির্দিষ্ট কিছু ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সমালোচনা ও অসন্তোষ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই কারণেই ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) তাঁকে বর্তমান মরশুমের জন্য তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কী ছিল অভিযোগ?
গত কয়েকটি মৌসুমে ইরফান ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় কয়েকজন খেলোয়াড়ের প্রতি অতিরিক্ত সমালোচনামুখী হয়ে উঠেছিলেন বলে অভিযোগ। বিশেষত, সম্প্রতি বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি সিরিজে এক ভারতীয় ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সকে তিনি বারবার টার্গেট করেছিলেন। এই সমালোচনা এতটাই তীব্র ছিল যে ওই ক্রিকেটার ইরফানের ফোন নম্বর ব্লক করে দেন বলে খবর। এছাড়াও, আরও কয়েকজন খেলোয়াড় ইরফানের বিরুদ্ধে বিসিসিআইতে অভিযোগ জানান।

বোর্ডের পক্ষ থেকে ইরফানকে পূর্বেই সতর্ক করা হলেও তিনি তা আমলে নেননি বলে জানা গেছে। বিসিসিআইয়ের এক আধিকারিকের বক্তব্য, “ধারাভাষ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা পক্ষপাতিত্বের স্থান নেই। ক্রিকেটারদের মনোযোগ খেলায় উপরে রাখাটাই বাঞ্ছনীয়।” সংস্থাটির দাবি, ইরফানের মন্তব্যের কারণে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছিল, যা টুর্নামেন্টের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হয়েছে। এটি প্রথম নয় যখন কোনো ধারাভাষ্যকারকে বিতর্কের কারণে সরানো হলো। ২০১৯ সালে সঞ্জয় মঞ্জরেকর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও রবীন্দ্র জাডেজার সমালোচনা করায় বাদ পড়েছিলেন, পরে ক্ষমা চেয়ে ফিরে আসেন। একইভাবে, ২০১৬ সালে হর্ষ ভোগলেকে অপ্রত্যাশিতভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যদিও কারণ স্পষ্ট না জানালেও পরবর্তীতে তিনি পুনরায় যোগ দেন। বর্তমানে বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত কিনা, তা স্পষ্ট নয়। ইরফান যদি বোর্ডের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান এবং ভবিষ্যতে পেশাদারি আচরণ বজায় রাখেন, তাহলে তাঁর ফিরে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ক্রিকেট মহলে এখন চোখ রাখা হয়েছে, কবে এই সাবেক অলরাউন্ডার আবার মাইক হাতে ফিরবেন।