
বলিউডের জনপ্রিয় তারকা সালমান খান সম্প্রতি একটি অনন্য এডিসনের ঘড়ি পরে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন। এই ঘড়িটি অযোধ্যার রাম জন্মভূমি মন্দিরের প্রচারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা একটি সংস্করণ, যার নাম ‘জ্যাকব অ্যান্ড কো. এপিক এক্স রাম জন্মভূমি টাইটানিয়াম এডিশন ২’। তবে, এই ঘড়ি পরার কারণে তিনি মুসলিম ধর্মীয় নেতা মৌলানা শাহাবুদ্দিন রাজভির কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মৌলানা রাজভি, যিনি অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি, এই কাজকে ইসলামে নিষিদ্ধ বা ‘হারাম’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।সালমান খান তার আগামী চলচ্চিত্র সিকান্দার-এর প্রচারণার সময় এই বিলাসবহুল ঘড়িটি পরেন। ঘড়িটির মূল্য প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা এবং এটি শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়, বরং ভারতের গভীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে উচ্চমানের শিল্পকর্মের একটি সমন্বয়। ঘড়ির ডায়াল এবং বেজেলে রাম জন্মভূমি মন্দিরের স্থাপত্যের সৌন্দর্য সূক্ষ্মভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এটি ইথোস ওয়াচেসের সঙ্গে অংশীদারিত্বে নির্মিত একটি সীমিত সংস্করণের পণ্য।মৌলানা শাহাবুদ্দিন রাজভি শুক্রবার একটি বিবৃতিতে জানান, সালমান খানের এই পদক্ষেপ সম্পর্কে ইসলামী শরিয়তের বিধান জানতে চেয়ে তিনি বহু মানুষের কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়েছেন। তিনি বলেন, “সালমান খান রাম মন্দিরের প্রচারের জন্য তৈরি এই রাম সংস্করণের ঘড়ি পরেছেন।

একজন মুসলিম হিসেবে এটি পরা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ইসলামে নিষিদ্ধ।” তিনি আরও যোগ করেন, “সালমান খান ভারতের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং তার লাখ লাখ ভক্তের মধ্যে অনেকেই মুসলিম। যদি তিনি বা অন্য কোনো মুসলিম ব্যক্তি রাম মন্দিরের মতো অমুসলিম বিষয়ের প্রচারে অংশ নেন, তবে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম। আমি তাকে ইসলামী নীতি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।”এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সালমানের ভক্তদের একাংশ মৌলানার এই বক্তব্যের বিরোধিতা করছেন, আবার কেউ কেউ তার এই পছন্দকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে, সালমান খান এখনও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।এই বিতর্ক ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ঘটনাটি নিয়ে সালমানের ভক্ত এবং সমালোচকরা সজাগ রয়েছেন, এবং আগামী দিনে এই বিষয়ে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।(তথ্যসূত্র: পিটিআই নিউজ এজেন্সি)