
২৪ এপ্রিল (২০২৫) কলকাতার কস্তুরী দাস মেমোরিয়াল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট ডা. সি.কে. সরকারের ক্লিনিকে যান সাত মাসের গর্ভবতী এক মুসলিম নারী। অভিযোগ অনুযায়ী, ডাক্তার তার ধর্মীয় পরিচয় জানার পর তাকে চিকিৎসা করা থেকে বিরত থাকেন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেন। ডা. সরকারের বক্তব্যে উঠে আসে, “কাশ্মীরের হামলার পর আমি কোনো মুসলিম রোগী দেখব না” । এছাড়াও তিনি গর্ভবতী নারীকে “সন্ত্রাসী” ও “খুনি” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “হিন্দুরা তোমার স্বামীকে হত্যা করুক, তাহলে তুমি আমাদের ব্যথা বুঝতে পারবে” ।
এই ঘটনার দুদিন আগে, ২২ এপ্রিল, জম্মু-কাশ্মীরের পাহালগামে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটক নিহত হন। দাবি করা হয়, হামলাকারীরা ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করে হিন্দু পুরুষদের টার্গেট করেছিল । পাকিস্তান-ভিত্তিক সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার অঙ্গসংগঠন “দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)” এই হামলার দায় স্বীকার করে । এই হামলার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলিম বিরোধী বক্তব্য ও ঘৃণামূলক প্রচারণা বেড়ে যায়, যা কলকাতার এই ঘটনাকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে ।
গর্ভবতী নারীর শ্যালিকা, মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী মেহফুজা খাতুন ফেসবুকে একটি পোস্টে এই ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত সাত মাস ধরে একই ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নেওয়া সত্ত্বেও ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে তার ভগ্নিপতির চিকিৎসা বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলে গর্ভবতী নারী শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন । মেহফুজা পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করেছেন, তবে কর্তৃপক্ষ প্রমাণ চেয়েছে বলে জানা গেছে ।
এই ঘটনায় ডাক্তারি নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। মেহফুজা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “গর্ভাবস্থার মতো স্পর্শকাতর পর্যায়ে চিকিৎসা প্রত্যাখ্যান মা ও শিশুর জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে” । ভারতীয় মেডিকেল কাউন্সিল (MCI) এর নিয়ম অনুযায়ী, ধর্ম, বর্ণ বা জাতি নির্বিশেষে সকল রোগীর চিকিৎসা করা বাধ্যতামূলক । মানবাধিকার কর্মী মোনা আম্বেগাওঙ্কর ডা. সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন ।
পাহালগাম হামলা পরবর্তী সময়ে ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর সম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রতিফলন । কলকাতার এই ঘটনায় শুভবুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো জড়িত চিকিৎসকের দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে ।