লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী রবিবার অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) আসলে ভোট চুরি ঢাকার এক প্রয়াস এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরম জেলার পাহাড়ি শহর পাচমাড়িতে জেলা কংগ্রেস সভাপতিদের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, “ভোট চুরি একটি গুরুতর সমস্যা। এসআইআর প্রক্রিয়া এই ভোট চুরিকে আড়াল করার একটা চেষ্টা। হরিয়ানায় যেমন ভোট চুরি হয়েছে, তেমনই হয়েছে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড়েও।”
রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, “হরিয়ানায় ২৫ লাখ ভুয়ো ভোট যুক্ত করা হয়েছে। প্রতি আটটি ভোটের মধ্যে একটি করে নকল। তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা বুঝেছি, একই পদ্ধতি অন্যান্য রাজ্যেও ব্যবহার করা হয়েছে।” তিনি অভিযোগ করেন, এটি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের এক যৌথ পরিকল্পনা। তিনি আরও বলেন, “আমাদের কাছে আরও প্রমাণ রয়েছে, যা ক্রমশ প্রকাশ করা হবে। গণতন্ত্র ও সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত করছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ যৌথভাবে এই কাজ করছেন।”
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়া ৪ নভেম্বর থেকে নয়টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হয়েছে। প্রায় ৫১ কোটি ভোটারের তালিকা পুনর্গঠন করা হচ্ছে ৩২১টি জেলা ও ১,৮৪৩টি বিধানসভা আসনে। এর জন্য প্রায় ৫.৩ লাখ বুথ-স্তরের অফিসার, ১০ হাজারের বেশি রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং ৭.৬ লাখ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে তৈরি করা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে ৯ ডিসেম্বর এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। তবে এদিকে কমিশনের দাবি, রাহুল গান্ধীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তারা জানিয়েছে, হরিয়ানার ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও আপিল বা একাধিক ভোট দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়নি।


