Saturday, June 6, 2026
32.8 C
Kolkata

ছাত্র আন্দোলনে দমন–পীড়নের দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড; ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কেও চাপ বাড়ছে

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গত বছরের ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণবিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।

৭৮ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ট্রাইব্যুনাল গণবিক্ষোভ দমন অভিযানের “মাস্টারমাইন্ড ও প্রধান স্থপতি” হিসেবে চিহ্নিত করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২4 সালের ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রায় ১,৪০০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়।

গত বছর গণ অভ্যুত্থানের সময় দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে আসেন হাসিনা। এখনও তিনি এখানেই রয়েছেন।

একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। হাসিনার মতো তিনিও গত বছর ভারত পালিয়ে যান।

তৃতীয় আসামি, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন এবং দোষ স্বীকার করেন। তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার ভারতকে “অবিলম্বে” হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে প্রত্যর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছে। ঢাকার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রীয় নৃশংসতার দায় এড়াতে পলাতক অবস্থায় থাকা দুইজনকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো এখন সময়ের দাবি।”

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ ইস্যুতে সরাসরি কোনো অবস্থান জানায়নি। এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে –

“ভারত বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও সর্বোত্তম স্বার্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তবে প্রত্যর্পণ নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রক। যদিও ঢাকা বিবৃতিতে প্রত্যর্পণ চুক্তির উল্লেখ করে দিল্লিকে “অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব” মনে করিয়ে দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইউনুস সরকার ইতিমধ্যেই হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়াকে “অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ” হবে বলে জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত্যুদণ্ড রায় ও প্রত্যর্পণ দাবির ফলে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক নতুন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে। ২০১৩ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তিতে “রাজনৈতিক প্রকৃতির” অভিযোগে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। সে কারণে ভারতের সিদ্ধান্ত এখন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

হাসিনার অনুপস্থিতিতে পরিচালিত এই ঐতিহাসিক বিচারের রায়ে দেশ-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ দাবি, ভারতের অনাড়ম্বর প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলের উদ্বেগ – সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

Hot this week

রাজ্যের প্রতিটি মাদ্রাসার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে জেলাশাসকদের নির্দেশ নবান্নের, রিপোর্ট জমার শেষ সময় ৫ জুলাই

রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মাদ্রাসাগুলির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু...

১৩ কোটির দেনা মাথায় নিয়ে মহামেডানের ব্যাটন ধরলেন হুমায়ুন কবির

শেষ পর্যন্ত তীব্র ক্ষোভ আর আর্থিক অনটনের জেরে বড়সড়...

আরজিকর মামলায় সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন নির্যাতিতার বাবা, আদালতে বিস্ফোরক অভিযোগ!

আরজিকর হাসপাতালের অভয়া কাণ্ডে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।...

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র যাদবের পদত্যাগের দাবিতে আজ যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি!

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র যাদবের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রথম...

Topics

১৩ কোটির দেনা মাথায় নিয়ে মহামেডানের ব্যাটন ধরলেন হুমায়ুন কবির

শেষ পর্যন্ত তীব্র ক্ষোভ আর আর্থিক অনটনের জেরে বড়সড়...

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র যাদবের পদত্যাগের দাবিতে আজ যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি!

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র যাদবের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে প্রথম...

তপ্ত দক্ষিণবঙ্গে এবার স্বস্তি, আজ বিকেলেই কালবৈশাখীর দাপট!

অবশেষে তপ্ত বাংলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস। একদিকে ভারতের মূল ভূখণ্ড...

খাবার ও অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্টে সাত দিন, জীবিত উদ্ধার হলেন দাওয়া শেরপা!

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে এক অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী...

Related Articles

Popular Categories