পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিরোধী বিজেপি দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, ভোটার তালিকার তথ্য সংশোধন অস্বাভাবিক গতি দেখা গেছে। তিনি জানান, মাত্র তিন দিনে ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে ভোটার সংখ্যা ৫.৫ কোটি থেকে বেড়ে ৬.৭৫ কোটিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রায় ১.২৫ কোটি নাম যুক্ত হয়েছে, যা তার মতে বাস্তবে সম্ভব নয় বলে জানান।
তবে নির্বাচন কমিশনের সরকারি নথি শুভেন্দুর দাবিকে পুরোপুরি খণ্ডন করছে। কমিশনের তথ্য বলছে, দেশের অন্য রাজ্যে আগেও এর চেয়ে দ্রুত হারে তথ্য আপলোড হয়েছে, এবং কমিশনের নিজস্ব পোর্টালে এই ধরনের কাজের জন্য প্রস্তুত ও সক্ষম। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বিহারের বিশেষ রিভিশন প্রক্রিয়ার কথা। সেই সময় বুথ লেভেল অফিসার এবং প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর সাহায্যে কমিশন তিন দিনের মধ্যেই রেকর্ড সংখ্যক ফর্ম ডিজিটাইজ করেছিল। ৮ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত মোট ডিজিটাইজড ফর্মের সংখ্যা ১.৪৩ কোটি থেকে বেড়ে হয় ৩.৭৩ কোটি। অর্থাৎ তিন দিনে ২.৩ কোটি ফর্ম প্রক্রিয়া করা হয়েছিল যা পশ্চিমবঙ্গের অভিযোগিত সংখ্যার তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ বেশি।
শুধু তাই নয়, ওই রিভিশনের পরের তিন দিন—১১ থেকে ১৪ জুলাই—আরও ২.০১ কোটি ফর্ম ডিজিটাইজ করা হয়। এর ফলে মোট সংখ্যা পৌঁছে যায় ৫.৭৪ কোটিতে। কমিশনের দৈনিক কর্মক্ষমতা কতটা দ্রুত হতে পারে, তা বোঝা যায় ১২ জুলাইয়ের তথ্য থেকে, যেখানে দেখা যায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৯৩ লক্ষ ফর্ম আপলোড করা হয়েছে।
এই সমস্ত পরিসংখ্যান দেখায়, কমিশনের হাতে পর্যাপ্ত প্রযুক্তি, লোকবল এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার ফলে স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক ভোটার তথ্য আপডেট করা সম্ভব। তাই পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়ায় ১.২৫ কোটি এন্ট্রি তিন দিনে যুক্ত হওয়া কমিশনের স্বাভাবিক সক্ষমতার মধ্যেই পড়ে।


