বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, গোয়া, লক্ষদ্বীপ ও পুদুচেরির খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। মোট ভোটার কমেছে প্রায় ৭.৬ শতাংশ। বাদ পড়েছে এক কোটিরও বেশি নাম।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর এসআইআর ঘোষণার সময় এই পাঁচ অঞ্চলে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৩৫ লক্ষ। নতুন খসড়া তালিকায় সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ১২ কোটি ৩৩ লক্ষে। অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ২ লক্ষ ভোটারের নাম আর তালিকায় নেই।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণনার সময়ে যারা নির্দিষ্ট ফর্ম জমা দিয়েছিলেন, শুধুমাত্র তাদের নামই খসড়া তালিকায় রাখা হয়েছে। যারা ফর্ম দেননি, তাদের মধ্যে অনেককে ‘স্থানান্তরিত’, ‘অনুপস্থিত’, ‘মৃত’ বা একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কারণে তাদের নাম বাদ গেছে। এই ছবি অনেকটাই বিহারের সাম্প্রতিক এসআইআর-এর মতো, যেখানে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটারের নাম কাটা পড়েছিল।
রাজস্থানে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে প্রায় ৪২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ৭.৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ নাম মৃত ভোটারদের, প্রায় ৩০ লক্ষ নাম স্থায়ী ভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া বা অনুপস্থিত ভোটারদের এবং সাড়ে ৩ লক্ষের বেশি নাম একাধিক জায়গায় নথিভুক্ত থাকার কারণে বাদ গেছে।
গোয়াতেও এক লক্ষের বেশি ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, মোট ভোটারের ৯১ শতাংশের বেশি মানুষ গণনার ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। বাদ পড়া নামের মধ্যে মৃত, ঠিকানায় না পাওয়া, অন্যত্র চলে যাওয়া এবং একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার রয়েছেন। উত্তর ও দক্ষিণ গোয়া, দুই জেলাতেই প্রায় সমান সংখ্যক নাম বাদ গেছে। পুদুচেরিতেও একই ছবি সামনে এসছে। সেখানে এক লক্ষ তিন হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন তালিকায় এখন ভোটারের সংখ্যা ৯ লক্ষ ১৮ হাজারের একটু বেশি।


