মুর্শিদাবাদ জেলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপি—দুই পক্ষেই প্রার্থী ঘোষণার পর ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জেলার একাধিক বিধানসভা এলাকায় দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নেতা-কর্মীদের একাংশ।
বড়ঞা, নবগ্রাম, রঘুনাথগঞ্জ, সামশেরগঞ্জ, ফরাক্কা ও জলঙ্গি—এইসব জায়গায় বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, যাঁদের প্রার্থী করা হয়েছে তাঁদের স্থানীয় স্তরে পরিচিতি কম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাও তেমন নেই। কোথাও কোথাও এমনও অভিযোগ উঠেছে, ভোটের আগে হঠাৎ দলে যোগ দিয়েই কেউ প্রার্থী হয়ে গিয়েছেন, যা মেনে নিতে পারছেন না পুরনো কর্মীরা।
ফরাক্কার বর্তমান বিধায়ক মণিরুল ইসলাম প্রকাশ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁকে প্রার্থী না করায় তিনি নির্দল হিসেবে নির্বাচনে লড়তে পারেন। এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল এইবার জেলায় বেশ কয়েকটি নতুন মুখকে সুযোগ দিয়েছে। বড়ঞায় প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক প্রতিমা রজককে প্রার্থী করা হয়েছে। আবার ডোমকল কেন্দ্রে প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক হুমায়ুন কবীরকে প্রার্থী করা হয়েছে। জলঙ্গিতে নতুন মুখ হিসেবে শিক্ষক বাবর আলিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, কিছু বর্তমান বিধায়ককে সরিয়ে অন্যত্র প্রার্থী করায় তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বেলডাঙায় প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে দলীয় অন্দরে অসন্তোষ তুঙ্গে। শুধু তৃণমূল নয়, বিজেপির ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। বড়ঞা, নবগ্রাম, রঘুনাথগঞ্জ ও সামশেরগঞ্জে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা প্রার্থী বদলের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। কোথাও টায়ার জ্বালিয়ে, কোথাও দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। এই অবস্থায় দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে নির্বাচনের আগে এই অসন্তোষ কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


